দেশব্যাপী চলমান নৈরাজ্যের কারণে মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে কিন্তু সরকার নির্লিপ্ত বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির (রওশন) মহাসচিব কাজী মো. মামুনূর রশিদ।
তিনি বলেছেন, ‘দেশজুড়ে যেভাবে হত্যাকাণ্ড, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, খুন, দখলবাজি ছড়িয়ে পড়েছে; তাতে গোটা জাতি চরম আতঙ্কিত। কিন্তু অন্তবর্তী সরকার উদাসীন। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশ এক চরম পরিণতির দিকে ধাবিত হবে।’
রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয় পার্টি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেছেন, ‘ধারাবাহিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে দেশে আর কারো জানমাল নিরাপদ নয়। অন্তর্বর্তী সরকার সর্বক্ষেত্রেই ব্যর্থ। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই ক্রান্তিলগ্ন থেকে উত্তরণে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার পূর্ণ প্রয়োগ করতে হবে।’
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য গণতান্ত্রিক সরকার প্রয়োজন উল্লেখ করে কাজী মো. মামুনূর রশিদ বলেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে, অনতিবিলম্বে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দিয়ে একটি নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।’
এ ছাড়াও বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র চলছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে নিজেদের ফায়দা লোটার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে দেশি-বিদেশি অপশক্তি। একই অপশক্তি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধেও চক্রান্ত অব্যাহত রেখেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্টের আরোপ করা ৩৫ শতাংশ ট্যারিফ আমাদের বাণিজ্যের জন্যে এক অশনি সংকেত। গত ১১ মাসে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আসেনি। সার্বিক অর্থনীতির অবস্থাও খুব নাজুক। অরাজকতার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা ভেঙে দিতে চায় একটি মহল।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য শফিকুল ইসলাম শফিক, খন্দকার মনিরুজ্জামান টিটু, জামাল রানা, উপদেষ্টা হাফসা সুলতানা, যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দীন তরুণ, সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাতুল ইসলাম পাভেল, কেন্দ্রীয় নেতা নাজমিন সুলতানা তুলি, আজমল হোসেন জিতু প্রমুখ।


