সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেছেন তার গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, এমপির অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে তাকে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।
বুধবার এ মামলা করেন ওবায়দুর রহমান। পরে আমিনুর রহমান নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার অন্য তিন আসামি হলেন মাসুম বিল্লাহ, মোতাসসিম বিল্লাহ ও রাকিবুল হাসান। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পল্লবী জোনাল টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হুদা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিন এসআই রাকিবুল হুদা গ্রেপ্তার আমিনুরকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। তবে আসামির পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, বাদী ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকার রোজ গার্ডেন টাওয়ারে তার বোনের বাসায় বসবাস করতেন। পাশাপাশি তিনি সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন। আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন।
একপর্যায়ে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগ্নির অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ওবায়দুর তার পরিবারকে জানান এবং নজরুল ইসলামকে এ ধরনের সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও ওই তরুণীর কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। নজরুল ইসলামের ধারণা ওবায়দুরই গোপন ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা ওবায়দুরের ওপর হামলা চালান। ওইদিন বেলা ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান তাকে কৌশলে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা মিলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে মেঝেতে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন।
এ সময় ওবায়দুরের মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আহত অবস্থায় ওবায়দুরকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হামলার পর থেকে আসামিরা ওবায়দুরকে ‘যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই’ হত্যা করার হুমকি দিচ্ছেন। নিরাপত্তার অভাবে বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে মামলাটি তদন্ত করে আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আরও পড়ুন>>
নৈতিক স্খলন/ গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার
বহিষ্কৃত গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে? নজির কী বলে?
জামায়াত এমপির ভিডিও ভাইরাল, তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি
জামায়াত এমপির বিরুদ্ধে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ
নৈতিক স্খলনের দায়ে আসন হারানোর ঝুঁকিতে জামায়াত এমপি
তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর পদক্ষেপ: জামায়াত


