তরুণীর সঙ্গে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তার পদত্যাগ ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার বেলা ১১টায় শ্যামনগরের ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোলায়মান কবির, জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট আশেক এলাহী মুন্না, মহিলা দলের সভানেত্রী নুর জাহান পারভীন ঝর্ণা, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন ও যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলুসহ অনেকে।
সমাবেশে বক্তারা ভিডিওটির তীব্র সমালোচনা করে গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগর উপজেলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তারা তাকে জামায়াতে ইসলামী থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বহিষ্কার করা এবং তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের জন্য স্পিকারের কাছে দাবি জানান।
কর্মসূচির একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা নানা ধরনের স্লোগান দেন এবং শ্যামনগর প্রেস ক্লাবের সামনে গাজী নজরুল ইসলামের কুশপত্তলিকা দাহ করেন।
গত সোমবার রাত থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে এক তরুণীর সঙ্গে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে একটি কক্ষে দেখা যায়। ফুটেজের বিভিন্ন অংশে তাকে মোবাইল ফোনে কথা বলতে এবং ওই তরুণীর সঙ্গে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
ভিডিওটি প্রকাশ পাওয়ার পর প্রাথমিক অবস্থায় এর সত্যতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয় এবং এটি ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ (এআই) দিয়ে তৈরি হতে পারে বলে দাবি করা হয়। তবে পরবর্তীতে একই কক্ষের আরও কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর, সংশ্লিষ্ট তরুণী গাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী বলে দাবি করেন জামায়াতের স্থানীয় নেতারা। একই দাবি করেছেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম নিজে, ওই তরুণী এবং তার বাবা।


