দিনাজপুরের জামতলী এলাকায় চার বছর বয়সী শিশু রাকিবা আক্তার রুহি হত্যা ও লাশ গুমের ঘটনায় গ্রেপ্তার রিপন টুডুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে জামতলী এলাকার একটি জঙ্গল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শিশু রাকিবা আক্তার রুহি হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার রিপন টুডুকে সঙ্গে নিয়ে সোমবার রাতে জামতলী বাজারসংলগ্ন আমবাগান ও হলুদক্ষেতে অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল।
ক্ষেতের বিভিন্ন স্থান খুঁড়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও রাত ১২টার পর পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও মরদেহের সন্ধান মেলেনি। পরে রিপন টুডুর দেওয়া তথ্য যাচাই করে মঙ্গলবার সকালে দ্বিতীয় দফায় অভিযান শুরু করে পুলিশ।
অভিযানের একপর্যায়ে জামতলী এলাকার একটি জঙ্গল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: দিনাজপুরে শিশু হত্যা, মামলা না নেওয়ার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ
পুলিশ জানিয়েছে, রিপন টুডু দিনাজপুর সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের জামতলী বাজারসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন মাস আগে শিশু রুহির মা জিন্নাতুন বেগমের সঙ্গে রিপন টুডুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে জিন্নাতুন তার শিশুকন্যা রুহিকে নিয়ে রিপন টুডুর বাড়িতে বসবাস শুরু করেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ওই সম্পর্কের ক্ষেত্রে শিশুটি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে–এমন আশঙ্কা থেকেই রুহিকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। পুলিশের দাবি, প্রায় দুই থেকে আড়াই মাস আগে শিশুটিকে হত্যার পর লাশ গুম করা হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
রুহির লাশ উদ্ধারের পর ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত আরও জোরদার করেছে পুলিশ। হত্যার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


