যুক্তরাজ্যের সীমান্ত নিরাপত্তা ও আশ্রয় বিষয়ক মন্ত্রী অ্যালেক্স নরিসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার এম নজরুল ইসলাম এবং ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া অভিবাসন সহযোগিতা ও মেধা বিনিময়ে স্বচ্ছ ও খোলামেলা সংলাপের গুরুত্ব, বাংলাদেশি পেশাজীবীদের জন্য যুক্তরাজ্যে নির্দিষ্ট মেয়াদের কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং যুক্তরাজ্যের ক্রমবিকাশমান অর্থনৈতিক অভিবাসন কাঠামোর অধীনে পারস্পরিক সুবিধাপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলো নিয়ে দুই পক্ষ বিশদ আলোচনা করেন।
চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন লন্ডনে আয়োজিত ‘এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ফোরাম ২০২৬’-এ অংশ নেন।
এই বৈশ্বিক সমাবেশে বাংলাদেশ থেকে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রধানরা অংশ নিয়েছেন।
‘ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষাব্যবস্থার রূপান্তর’-এই মূল প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত ফোরামে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন মাহদী আমিন, যা ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ তাদের ভেরিফায়েড সোশ্যাল মিডিয়া পেজে প্রকাশ করেছে।
ফোরামে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এই বৃহৎ ফোরামে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
বিশেষ করে বাস্তব বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কীভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, সেই বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের সঠিক দক্ষতা অর্জন, বিশ্ব নাগরিক হিসেবে প্রস্তুত করা এবং একটি উন্নত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্মের মশালবাহক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।
এই প্ল্যাটফর্ম থেকে বৈশ্বিক সর্বোত্তম অনুশীলনগুলো এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নিয়ে দেশে ফিরে পরবর্তী প্রজন্মের শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


