নরসিংদীতে ২ মাসের শিশুর পা মুচড়ে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় মূল অভিযুক্ত শিশুটির চাচী লতা বেগমসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
এরই মধ্যে লতা বেগমের স্বামী ও বাবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে লতা বেগম পলাতক রয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে নরসিংদী প্রবেশন অফিসার কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার রিজা আক্তার বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মামলাটি করেন। বুধবার সকালে মামলা ও গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
এর আগে সোমবার থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক শিশুর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে দেখা যায় একজন নারী ঘুমন্ত শিশুটির পা জোরে মুচড়ে দিয়ে দ্রুত ঘর হতে বের হয়ে যান, এরপর শিশুটি কান্না করতে থাকে।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, ভিডিওতে দেখা নারী শিশুটির চাচি রত্না বেগম। পারিবারিক বিরোধের জেরে তিনি শিশুটিকে নির্যাতন করতেন।
সম্প্রতি মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। শিশুটি সায়েবা বেগম ও কাউসার মিয়ার সন্তান।
শিশু নির্যাতনের মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, শিশুটির চাচী লতা বেগম (৩২), লতার স্বামী কাউসার আহমেদ (৩৩) এবং লতার বাবা আলমাছ মিয়া (৬০)।
মামলার বিবরণে বলা হয় , জন্মের পর থেকেই অসুস্থ থাকায় শিশুটি বিভিন্ন মেয়াদে হাসপাতালে ছিল। প্রায়ই ঘরে কান্না করতো শিশুটি। কান্নার বিষয়টি নিয়ে শিশুর মায়ের সন্দেহ হলে গোপনে ভিডিও ধারণের পন্থা অবলম্বন করেন তিনি। এছাড়া, তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ হতো প্রায়ই।
এ ব্যাপারে শিশুটির বাবা কাউসার মিয়া বলেন, ‘পারিবারিক কলহের জেরে আমার শিশু সন্তানকে আমার বড় ভাইয়ের স্ত্রী লতা বেগম অগোচরে নির্যাতন করতো। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমার স্ত্রী গত ১১ জুলাই বিকালে ঘরের ভিতর গোপনে একটি মোবাইল ফোনে ভিডিও অন করে রেখে যান। শিশুটি কান্না শুরু করলে দৌড়ে এসে ভিডিওতে দেখেন ‘আমার ভাইয়ের স্ত্রী লতা বেগম আমার শিশুটির একটি পায়ে সজোরে মুচড়ে দেন। তবে আমার সন্তানের পা ভাঙ্গেনি।’
বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে বসে সমাধান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি জানার পর আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়েছি এবং ঘটনা সম্পর্কে জানতে শিশুটির মা ও বাবার সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, শিশুটির পা ভাঙেনি। তবে পারিবারিক কলহের জেরে শিশুটিকে নির্যাতন করা হতো। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত তিনজনের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত লতা বেগম পলাতক থাকলেও তার স্বামী কাউসার আহমেদ (৩৩) এবং লতার বাবা আলমাছ মিয়াকে (৬০) গ্রেপ্তার করেছি।’


