ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে দীপু চন্দ্র দাশকে পিটিয়ে হত্যা ও মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিও জানিয়েছে তারা।
শুক্রবার বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক মেরাজ খান আদরের দেওয়া বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা এবং সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ যৌথ বিবৃতিতে জানায়, ‘ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাশকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে গাছে ঝুলিয়ে মরদেহ পুড়িয়ে দিয়েছে উগ্রবাদীরা। স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন ধর্ম অবমাননার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়ার কথা জানালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনো ভূমিকা নেয়নি।’
পরিবারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে কর্মস্থলের বিরোধকে ধর্মীয় মোড়ক দিয়ে হত্যার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা দীর্ঘসময় ধরে দেখছি ধর্মীয় অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে ভিন্নমতের মানুষের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই ভিন্ন ধর্মাবলম্বী, মাজারপন্থী, বাউল ও প্রগতিশীল মানুষদের ওপর হামলা, আক্রমণ চালানো হয়েছে। যা এখনও চলমান।’
বিবৃতিতে আরও বরা হয়, ‘আমরা দীর্ঘদিন থেকেই বলে আসছি, ধর্মীয় অবমাননাকর অভিযোগে কারও ওপর আক্রমণ করা যাবে না। কিন্তু আমরা দেখছি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বহুমত ধারণের কথা বললেও বাস্তবে তারা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দিয়ে একপ্রকার রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্ষমতায়িত করেছে। ধর্মের নামে সহিংসতা ছড়ানো এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই সংস্কৃতির সম্পূর্ণ দায় রাষ্ট্র ও প্রশাসনকেই নিতে হবে।’
অবিলম্বে দীপু চন্দ্র দাশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল হত্যাকারী ও উস্কানিদাতাকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বে অবহেলার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ধর্ম অবমাননার নামে সহিংসতা ও গুজবের বিরুদ্ধে জিরো-টলারেন্স নীতি কার্যকর করারও দাবি জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন।
বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার ডুবালিয়াপাড়া এলাকার পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট কারখানায় এ হত্যাকাণ্ড হয়। নিহত দীপু চন্দ্র দাশ পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট কারখানার শ্রমিক ছিলেন।


