‘শাপলা’ নিয়ে এখন এত আলোচনা কেন, প্রশ্ন সিইসির

‘শাপলা’ নিয়ে এখন এত আলোচনা কেন, প্রশ্ন সিইসির
সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

দলীয় প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা’ চেয়ে নির্বাচন কমিশনে প্রথম আবেদন করেছিল রাজনৈতিক দল নাগরিক ঐক্য। গত ১৭ জুন এই আবেদন করে দলটি। সেসময়ও জাতীয় প্রতীক বিবেচনায় তাদের দেওয়া হয়নি ‘শাপলা’।

তখন সেভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা না হলেও এখন কেন শাপলা নিয়ে এত আলোচনা, সে প্রশ্ন রেখেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।

তিনি বলেন, ‘নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নাগরিক ঐক্য প্রথমে শাপলা প্রতীক চেয়েছিল। দলটি এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, এটা দেওয়া যাবে না। কিন্তু এখন দেখি শাপলা প্রতীক নিয়ে আপনারা খুব আলোচনা করছেন। আমাদের সিনিয়র সেক্রেটারি অলরেডি এ ব্যাপারে অনেক ব্রিফ করেছেন। আমি এই ব্যাপারে আর কোনো বক্তব্য এখন দিতে চাইনা।’

বৃহস্পতিবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এসব কথা বলেন।

গত বছর ২ সেপ্টেম্বর মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্যকে নিবন্ধন ও প্রতীক বরাদ্দ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয় নির্বাচন কমিশন। তাদের নিবন্ধন নম্বর ৫২ এবং দলটির প্রতীক হিসেবে দেওয়া হয় ‘কেটলি’।

এরপর গত ১৭ জুন, কেটলির পরিবর্তে ‘শাপলা’ বা ‘দোয়েল’ চেয়ে আবেদন করে নাগরিক ঐক্য। তবে তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়, জাতীয় প্রতীক বিবেচনায় এ প্রতীক দুটি দেওয়া যাবে না।

আরও পড়ুন

এরপর ২২ জুন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন দাখিল করে এনসিপি। একই সঙ্গে দলের জন্য ‘শাপলা’ প্রতীক সংরক্ষণেরও আবেদন জানায়। অর্থাৎ এনসিপি যখন ‘শাপলা’ চেয়ে আবেদন করেছে, তার আগেই প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা’ কোনো রাজনৈতিক দলকে দেওয়া যাবে না বলে স্পষ্ট করেছে নির্বাচন কমিশন।

তবুও দফায় দফায় শাপলা চেয়ে আবেদন করেছে এনসিপি। এমনকি সবশেষ গত মঙ্গলবার এক ফেসবুক পোস্টে দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শাপলা না দিলে কীভাবে নির্বাচন হয় তা দেখে নেওয়া হবে।

নির্বাচনি বিধিমালায় কোনো পরিবর্তন আনা হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কমিশনে আলোচনা করে করণীয় নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক দল আমাদের মেজর স্টেক হোল্ডার, তারা আমাদেরকে চিঠি দিতেই পারে। এটা নিয়ে কমিশনের সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

ফেব্রুয়ারিতে ভোট হবে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন করার জন্য যা যা প্রস্তুতি নেয়া দরকার, আমরা জোরেশোরে নিচ্ছি।’

রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর বার্তা আসছে, নানা শঙ্কার কথা বলা হচ্ছে-উল্লেখ করে এসব বিষয়ে সিইসির মন্তব্য জানতে চান সাংবাদিকরা।

জবাবে সিইসি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল আমাদের মূল স্টেক হোল্ডার, উনাদের সহযোগিতা ছাড়া সুন্দর নির্বাচন করা সম্ভব নয়-এটা তো ঠিকই। কিছুদিন আগে একটি পত্রিকার সম্পাদক একটা মন্তব্য প্রতিবেদন লিখেছিলেন, আমি খুব লাইক করেছি। উনি বলছেন যে, সব খেলোয়াড়রা যদি ফাউল করার নিয়তে মাঠে নামে তাহলে রেফারির পক্ষে তো ম্যাচ পন্ড হওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব না। সুতরাং খেলোয়াড়দের ফাউল করার নিয়ত থেকে দূরে থাকতে হবে। যারা খেলবেন, তারা যদি ফাউল করার নিয়তে মাঠে নামেন তাহলে তো মুশকিল। কিন্তু ফাউল যাতে না করতে পারেন, তার যাবতীয় ব্যবস্থা আমরা নেব।’

আরপিও এবং সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করবেন বলেও জানান তিনি।

সংলাপে জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলীয় জোটের ডাকা হবে কিনা এমন প্রশ্ন তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টির পাঁচটা প্রস্তাব পেয়েছি আমি। আপনারা কয়টি পেয়েছেন জানিনা। কোন জাতীয় পার্টির কথা বলছেন বুঝতে পারছি না। লাঙ্গলের দাবিদার তো হয়েছে একাধিক। সংলাপে ডাকা হবে কিনা এখনো এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আগে আমরা সুশীল সমাজ, বিভিন্ন সংগঠন ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সংলাপ করব।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর