পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে বানোয়াট ভিডিও তৈরি ও অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কথিত অভিযোগকারী তরুণী নাফিসা সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, তাকে জোরপূর্বক মিথ্যা বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় মদদ দেওয়ার অভিযোগে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ওসি রাশেদুল ইসলামকে দ্রুত প্রত্যাহার ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
শনিবার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় এসব দাবি জানানো হয়। একই সময়ে তরুণী নাফিসা তার নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য দেন।
সংবাদ সম্মেলনে তরুণী নাফিসা দাবি করেন, তিনি স্বেচ্ছায় কোনো বক্তব্য দেননি। সুবর্ণা হালিম নামে এক বিএনপি নেত্রী তাকে জিম্মি করে প্রথমে নিজের বাসায় নিয়ে যান এবং জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের কথা বলতে বাধ্য করেন। পরবর্তী সময়ে তাকে পাবনা ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। নাফিসার অভিযোগ, ডিবি কার্যালয়ে তার মা-বাবার সামনেই সোহেল রানা বিপ্লব নামে এক ব্যক্তি সাজানো বক্তব্যের ভিডিওটি ধারণ করেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
পরে মূল ঘটনা প্রকাশ পেলে নাফিসা তার বক্তব্য অসত্য ও জিম্মি করে চাপ প্রয়োগের ফসল বলে স্বীকার করেন এবং থানায় দেওয়া বানোয়াট অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন।
এদিকে প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় সাংবাদিকরা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক নামধারী একটি কুচক্রী মহল পাবনা প্রেসক্লাবের বিপরীতে প্রায় একই নামে সংগঠন খুলে মাদক ব্যবসা, জমি দখল, ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। মূলধারার সংবাদকর্মীরা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চক্রটি কতিপয় অসাধু রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তায় এক তরুণীকে ব্যবহার করে এই সাজানো নাটকের আশ্রয় নেয়।
সভায় সাংবাদিক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার মতো একটি দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে তরুণীকে জিম্মি করে ভিডিও ধারণের ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ডিবি ওসি রাশেদুল ইসলামের প্রত্যাহার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
প্রেসক্লাবের সাহিত্য সম্পাদক পাভেল মৃধার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতীন খান, সাবেক সভাপতি এনটিভি ও সমকালের স্টাফ রিপোর্টার এবিএম ফজলুর রহমান, সাবেক সম্পাদক বাংলাভিশনের স্টাফ রিপোর্টার আঁখিনূর ইসলাম রেমন, সাবেক সম্পাদক বাংলাদেশ প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার সৈকত আফরোজ আসাদ, সাবেক সহসভাপতি মির্জা আজাদ, প্রথম আলোর প্রতিনিধি সারোয়ার মোর্শেদ উল্লাস, আরটিভির জেলা প্রতিনিধি আবুল কালাম আজাদ, সৈয়দ আখতারুজ্জামান পাপুল, দৈনিক নতুন বিশ্ববার্তার সম্পাদক শহিদুর রহমান, ক্লাব সদস্য জিকে সাদী, মানবজমিন ও একুশে টিভির স্টাফ রিপোর্টার রাজিউর রহমান রুমী, বাংলাদেশ টুডের স্টাফ রিপোর্টার আব্দুল হামিদ খান, ভোরের কাগজে জেলা প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম সুইট, নিউ এজ প্রতিনিধি মাহফুজ আলম, আলোকিত বাংলাদেশ প্রতিনিধি কাজী বাবলা, ডেইলি মর্নিং টাচ সম্পাদক এমজি বিপ্লব চৌধুরী, আগামীর সময় ও এটিএন নিউজের প্রতিনিধি রিজভী জয়, ৭১ টিভি ও সময়ের আলো প্রতিনিধি মুস্তাফিজ রহমান, দৈনিক ইছামতির ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোখলেসুর রহমান বিপ্লব, ইমরোজ খন্দকার বাপ্পি, মিজান তানজিল ও পার্থ হাসান প্রমুখ।
এ বিষয়ে পাবনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি রাশেদুল ইসলাম বলেন, ভিকটিম পরিবার আতঙ্কিত হয়ে আমাদের কাছে সহায়তা চেয়েছিল। তাদের উদ্ধার করে আমাদের হেফাজতে এনেছিলাম আইনগত সহায়তা দেওয়ার জন্য। সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে কেউ হয়ত ভিডিও করেছে।
পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ বলেন, এ বিষয়ে আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব। কমিটি রিপোর্ট দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


