গণভোটের রায়কে অবৈধ বলার চেষ্টা করছে সরকার: শফিকুর

গণভোটের রায়কে অবৈধ বলার চেষ্টা করছে সরকার: শফিকুর
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

গণভোটের রায়কে অবৈধ ঘোষণা করা হলে বর্তমান সরকার ও জাতীয় সংসদের বৈধতাও প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর মিরপুর-১০-এর ফলপট্টি এলাকায় ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াত আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দাবিতে এ জনসভার আয়োজন করে ১১-দলীয় জোট।

শফিকুর রহমান বলেন, সরকার এখন গণভোটের রায়কে অবৈধ বলার চেষ্টা করছে। অথচ প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ নেতারাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। ফলে এখন সেই গণভোটকে অবৈধ বলার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, গণভোট যদি অবৈধ হয়, তাহলে সেই গণভোটের ভিত্তিতে গঠিত সরকার ও সংসদও বৈধ থাকতে পারে না। গোশত হালাল হলেও ঝোল হারাম হওয়ার সুযোগ নেই। তাই গণভোট হারাম হলে সরকারও হারাম। আর সরকার হারাম হলে দেশে কোনো বৈধ সরকার নেই।

আরও পড়ুন

জামায়াত আমির বলেন, জনগণের মতামতের ঊর্ধ্বে কিছু হতে পারে না। জনগণ যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তার প্রতি সম্মান দেখানো সরকারের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। তাই কোনো ধরনের টালবাহানা না করে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার ও সংসদ জুলাই বিপ্লবের ফসল। সে কারণে সরকারের উচিত জুলাই বিপ্লবের প্রতি যথাযথ সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। একই সঙ্গে জুলাই গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন, শহীদদের জাতীয় বীরের মর্যাদা দেওয়া, আহতদের উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং শহীদ পরিবারের রাষ্ট্রীয় সম্মান নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই বিপ্লব ছিল বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় সংঘটিত একটি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান। এর মূল লক্ষ্য ছিল খুন, গুম, হত্যা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া গণরায় উপেক্ষা করা হলে তার রাজনৈতিক মূল্য সরকারকে দিতে হবে।

ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও ডিএনসিসিতে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান, ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল বাতেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য হারুন অর রশীদ খান এবং মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ফখরুদ্দিন মানিক ও ইয়াসিন আরাফাত, ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, মহানগরী পশ্চিম ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহিবুল্লাহ আল হোসাইনি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি শান্ত তালুকদার, জুলাই শহীদ মাহফুজুর রহমানের পিতা আব্দুল মান্নান ও আরেক শহীদের পিতা মোশাররফ হোসেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad