স্ত্রীকে জবাই করে হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

স্ত্রীকে জবাই করে হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
Advertisement
Advertisement

প্রায় ৯ বছর আগে ঢাকার মধ্য বাড্ডা এলাকায় স্ত্রীকে ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় স্বামী মনির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবীব বাপ্পী এ রায় ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারি মো. আবুল কাশেম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘দণ্ডের পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।’

রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে আসামি এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন।

মামলায় মনির হোসেন জামিনে ছিলেন। গত ১৪ জুলাই রায়ের দিন ধার্যের পর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

আরও পড়ুন

এদিন রায় ঘোষণার আগে তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

মামলার অভিযোগ বলা হয় , ২০০৩ সালের দিকে মনির হোসেনের সঙ্গে শাকির খাতুন সোমা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর কিছুদিন তারা সুখে-শান্তিতে বসবাস করে। কিছুদিন যেতে না যেতেই মনির ও তার পরিবারের সদস্যরা সোমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে শুরু করে। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সোমা তা মেনে নেয়। মনির ব্যবসার কথা বলে সোমাকে চাপ দেয়। সোমার পরিবার বিভিন্ন সময় তাকে ১১ লাখ টাকা দেয়। সোমার দুই বোনও তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করে। তারপরও আরও টাকার জন্য তাকে নির্যাতন করতো।

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মনির সোমাকে নির্যাতন করে বাসা থেকে বের করে দেয়। সোমা তার মায়ের বাসা বাড্ডায় চলে যায়। আর কখনো এমনটা করবে বলে অঙ্গীকার দিয়ে সোমাকে কয়েকদিন পর নিয়ে আসে মনির। তারপরও নির্যাতন কমেনি। ৬ অক্টোবর দুপুর দেড়টার দিকে টাকা-পয়সা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া লাগে। একপর্যায়ে মনির ছুরি দিয়ে সোমাকে আঘাত করে। আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় সোমার মা মোসা. আক্তার বানু ওইদিনই বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার করা হয় মনিরকে। সে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকর্তা বাড্ডা থানার এসআই বায়েজীদ বোস্তামী। ২০১৮ সালের ১৭ মে মনিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। আসামির আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত থেকে আসামির সাজার রায় এল।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad