ব্যর্থতা পেরিয়ে সফলতা, ইনকিউবেটরে ফুটল উটপাখির বাচ্চা

ব্যর্থতা পেরিয়ে সফলতা, ইনকিউবেটরে ফুটল উটপাখির বাচ্চা
দিনাজপুরে ইনকিউবেটরে জন্ম নেওয়া উটপাখির বাচ্চা। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইনকিউবেটরে সফলভাবে উটপাখির ডিম থেকে সুস্থ বাচ্চা ফুটানো সম্ভব হয়েছে। দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার একটি বেসরকারি বিনোদন কেন্দ্র ‘দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্ক’-এ এই ঘটনা ঘটে।

কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তির (ইনকিউবেটর) মাধ্যমে মোট সাতটি বাচ্চা ফুটলেও বর্তমানে ছয়টি বাচ্চা সুস্থ রয়েছে, যাদের বয়স প্রায় দেড় মাস। গবেষক ও প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা এটিকে দেশের পোলট্রি শিল্প ও বাণিজ্যিক খামার সম্প্রসারণে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।

​পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে ঢাকা থেকে এক জোড়া উটপাখি আনা হয়। পাখি দুটি ২৪টি ডিম পাড়ার পর সেগুলোকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ডিমগুলোর মধ্যে পাঁচটি দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) জেনেটিকস অ্যান্ড অ্যানিমেল ব্রিডিং বিভাগের গবেষণাগারে এবং দুটি পার্কের নিজস্ব ইনকিউবেটরে রাখা হয়। ৪৫ দিনের ইনকিউবেশন প্রক্রিয়া শেষে গত ২৪মে সাতটি বাচ্চা ফোটে।

​পার্কের স্বত্বাধিকারী ইঞ্জিনিয়ার রইচ উদ্দীন মিঞা বাবুল এবং কৃষিবিদ মোর্শেদা বেগম লুপু বাচ্চাগুলোর নিবিড় পরিচর্যা করছেন। সম্প্রতি উটপাখি দুটি আরও আটটি ডিম দিয়েছে। যেগুলো এখন ইনকিউবেটরে রয়েছে এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সেগুলো থেকেও বাচ্চা ফুটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

ইনকিউবেটরে জন্ম নেওয়া উটপাখির বাচ্চা। ছবি: টাইমস

​হাবিপ্রবির জেনেটিকস অ্যান্ড অ্যানিমেল ব্রিডিং বিভাগ ২০২০ সাল থেকে দেশে উটপাখির বংশবৃদ্ধির সম্ভাব্যতা নিয়ে গবেষণা শুরু করে। ইতোপূর্বে ২০২১ সালে ১৯টি, ২০২২ সালে ৩৬টি এবং ২০২৩ সালে বিভিন্ন ধাপে বেশ কিছু ডিম ইনকিউবেটরে স্থাপন করা হলেও আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যায়নি। ২০২৩ সালে একটি বাচ্চা ফুটলেও তা কিছুদিন পর মারা যায়।

আগের সেই ব্যর্থতাগুলো কাটিয়ে দীর্ঘ প্রায় ছয় বছরের গবেষণায় এবারই প্রথম বাচ্চাগুলোকে দেড় মাস পর্যন্ত সুস্থ ও জীবিত রাখা সম্ভব হয়েছে।

হাবিপ্রবির জেনেটিকস অ্যান্ড অ্যানিমেল ব্রিডিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রাশেদুল ইসলাম জানান, দেশে উটপাখির প্রজনন নিয়ে আগের কয়েক দফা চেষ্টা সফল না হলেও এবার সুস্থ বাচ্চা ফোটানো এবং সেগুলোকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছে। এটি আমাদের গবেষণায় একটি বড় অগ্রগতি। সাধারণত একটি উটপাখি মৌসুমে ৬০ থেকে ৮০টি ডিম দেয় এবং ৪২ থেকে ৪৫ দিনে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশ থেকে একটি উটপাখির বাচ্চা আমদানি করতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। দেশেই যদি উটপাখির সফল প্রজনন ও বাচ্চা উৎপাদন নিশ্চিত করা যায়, তবে আমদানি নির্ভরতা কমবে। এটি দেশের প্রোটিনের চাহিদা পূরণে একটি নতুন ও লাভজনক বাণিজ্যিক উৎস হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

​দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও) মো. আব্দুর রহিম জানান, দেশে এর আগে উটপাখির বাচ্চা ফুটলেও তা এক সপ্তাহের বেশি টেকানো সম্ভব হয়নি। তবে এবার দেড় মাস পার হওয়ায় এই গবেষণা সফলতার মুখ দেখছে বলে তারা আশাবাদী।

​সম্প্রতি দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম এবং জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পার্কটি পরিদর্শন করে এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং দেশীয় প্রাণিসম্পদ খাতে উটপাখির বংশবিস্তার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে মত প্রকাশ করেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad