ঢাকার মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড আগামী তিন মাসের মধ্যে সংস্কার করা হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক মো. তারিকুল ইসলাম মুকুল। বর্তমানে ওয়ার্ডটি বন্ধ রাখা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে মগবাজারে হাসপাতালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
তারিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘আমাদের যে ওয়ার্ডে ছয় শিশু মৃত্যুবরণ করেছে, সেই ওয়ার্ড আমরা বন্ধ রেখেছি। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আগামী তিন মাসের মধ্যে সেই ওয়ার্ডের সব ধরনের সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করব।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা যথাযথভাবে প্রতিপালন করবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের যেন কোনো ধরনের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়েও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আপিল করবে বলেও জানান তারিকুল ইসলাম। তিনি আশা করেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখার অনুমতি দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আদ্-দ্বীন পরিচালক জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের সেবা অব্যাহত থাকবে এবং সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসা বন্ধ করা হবে না।
‘ক্রিটিক্যাল রোগীদের তো অবশ্যই আমাদের সেবা দিতে হবে। আমরা তাদের বের করে দিতে পারি না। রোগীদের পাশে আমরা সবসময় ছিলাম, এখনও আছি’, বলেন তিনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ রাখা হয়েছে জানিয়ে তারিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘বৃহস্পতিবার থেকেই নতুন রোগী ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সরকারের নির্দেশনা ও নীতিমালার প্রতি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সবসময় শ্রদ্ধাশীল এবং সরকার যেভাবে নির্দেশনা দেবে, সেভাবেই আমরা কাজ করব।’
এ সময় তিনি বলেন, হাসপাতালের অন্য ইউনিট ও সেবাগুলো নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হচ্ছে। তবে যে ওয়ার্ডে নবজাতকদের মৃত্যু হয়েছে, সেটি বন্ধ রেখেই সংস্কার কাজ পরিচালনা করা হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এর আগে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সেখানে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করা হবে।


