ঈদে মুক্তির পর থেকেই আলোচনায় ছিল ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। দর্শকের আগ্রহ এবার শুধু কথায় নয়, টিকিট বিক্রির সংখ্যাতেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, মুক্তির প্রথম ১৮ দিনেই এক লাখের বেশি দর্শক টিকিট কেটে ছবিটি দেখেছেন।
বাংলা সিনেমায় এভাবে দর্শকসংখ্যা প্রকাশ খুব একটা দেখা যায় না। তবে ছবিটি কেবল দেশের মাল্টিপ্লেক্সে মুক্তি পাওয়ায় টিকিট বিক্রির নির্ভরযোগ্য হিসাব পাওয়া গেছে। নির্মাতা ও প্রযোজনা সংশ্লিষ্টরা এটিকে দর্শকদের ভালোবাসার সরাসরি প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
পরিচালক তানিম নূর বলেন, দর্শক সিনেমাটি দেখছেন—এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তার ভাষায়, “দর্শকদের জন্যই সিনেমা বানানো হয়, তাদের এই ভালোবাসাই আমাদের অনুপ্রেরণা।”
আয়ের দিক থেকেও এগিয়ে রয়েছে ছবিটি। প্রযোজনা সূত্র জানায়, ঈদের মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোর মধ্যে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ বর্তমানে শীর্ষে। এখন পর্যন্ত দেশীয় বাজারে এর আয় ৫ কোটির বেশি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। উত্তর আমেরিকায় মুক্তির প্রথম তিন দিনে ছবিটি আয় করেছে ৫৪ হাজার মার্কিন ডলার। পরবর্তী আয় ও অস্ট্রেলিয়ার বাজার যুক্ত হয়ে মোট আয় ইতোমধ্যে লাখ ডলার ছাড়িয়েছে।
তানিম নূর পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, শরীফুল রাজ, সাবিলা নূর, শ্যামল মাওলা, জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন, শামীমা নাজনীন, ইন্তেখাব দিনার ও আরেফিন জিলানীসহ অনেকে। প্রযোজনায় রয়েছে বুড়িগঙ্গা টকিজ, সহপ্রযোজক হিসেবে আছে হইচই স্টুডিওস।
গল্প প্রসঙ্গে নির্মাতার বক্তব্য, ট্রেন যেমন দেশের এক প্রান্তকে অন্য প্রান্তের সঙ্গে যুক্ত করে, তেমনি এই ছবিও বিচ্ছিন্ন মানুষের গল্পগুলোকে এক সুতোয় গেঁথে দেয়। একটি ট্রেনের প্রতিটি বগিতে যেমন ভিন্ন ভিন্ন জীবনের গল্প থাকে, তেমনি ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এ উঠে এসেছে সম্পর্ক, স্মৃতি আর মানবিকতার নানা রঙ—একটি অভিন্ন অনুভূতিতে পুরো বাংলাদেশকে ধরার চেষ্টা রয়েছে এতে।


