আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আবৃত্তি ও সংস্কৃতিচর্চা মানুষকে গণতন্ত্র, মানবিক মূল্যবোধ, মুক্তচিন্তা ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে। একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক ও রক্তপাতহীন সমাজ গঠনে আবৃত্তি ও সংস্কৃতিচর্চার ভূমিকা অপরিসীম।
বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘উৎসব ২০২৬’ এর অংশ হিসেবে ‘স্মৃতির দর্পণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে আহত জুলাই যোদ্ধা এবং গত ১৭ বছরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নিহত, গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, তাদের দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও ত্যাগের যৌক্তিক এবং সফল পরিণতি ছিল ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জুলাইয়ের চেতনা ছড়িয়ে দিতে এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার মাধ্যমে সেই চেতনাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন আবৃত্তিচর্চা দেশের শিল্প-সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হওয়া সত্ত্বেও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত ছিল। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় সংসদে আইন সংশোধনের মাধ্যমে আবৃত্তিকে দেশের শিল্প-সংস্কৃতির অন্যতম একটি শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আবৃত্তিশিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা কবিতা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে গণতান্ত্রিক চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এ ধরনের উদ্যোগ একটি সুন্দর, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বক্তব্য দেন।
আলোচনা শেষে আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিকর্মী, আবৃত্তিশিল্পী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


