স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব ছিল দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারবিরোধী ক্ষোভের বিস্ফোরণ।
বুধবার বিকালে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মতো জুলাইয়ের গণবিপ্লবও আমাদের অর্জনের অনন্য প্রতীক। এই আন্দোলন একদিনে গড়ে ওঠেনি। ২০০৯ সালের পর তৎকালীন সরকারের নির্যাতন, গুম, হত্যা, দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও রাজনৈতিক নিপীড়নে মানুষের মনে জমে থাকা ক্ষোভ জুলাইয়ে বিস্ফোরিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের ছেলে-মেয়েরা যেভাবে রাজপথে নেমে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। জুলাই অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন বা চোখ, হাত, পা হারিয়েছেন, জাতি তাদের আত্মত্যাগ চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠনের শপথ নিয়েছি। সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের দোসররা এখনো সক্রিয়। তারা বিদেশি অপশক্তির সহায়তায় দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে।’
স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিচারব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে গুম, হত্যা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের মাধ্যমে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছিল। তবে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে সেই শাসকগোষ্ঠী দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।
তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের গণআন্দোলন ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের বহিঃপ্রকাশ। দেশের মানুষ গণপ্রতিনিধিত্বশীল ও সুশাসিত সরকার চেয়েছে। তাই আমাদের সততা ও ন্যায়নীতির ভিত্তিতে জনগণের জন্য কাজ করতে হবে।’
সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খোরশেদ আলম, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এস এম আহসানুল আজিজ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানাসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।


