হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলমান গবেষণা উপপ্রকল্পসমূহ নিবিড়ভাবে তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ।
বুধবার ইউজিসি ভবনে হিট প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) সংশোধন বিষয়ে আয়োজিত এক অংশীজন কর্মশালায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, গবেষণা উপপ্রকল্পগুলোর মূল্যায়ন থেকে শুরু করে বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। প্রতিটি কাজ সরকারি বিধিবিধান মেনে সম্পন্ন হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে।
প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ যেন নির্ধারিত উদ্দেশ্যেই ব্যয় হয়, সে লক্ষ্যে অর্থ ছাড়ের আগে ও পরে যথাযথ নজরদারি এবং মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন তিনি।
প্রয়োজনে তদারকির বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রকল্পের ডিপিপিতে নতুন বিধান সংযোজনের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
মামুন আহমেদ আরও জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এক লক্ষ শিক্ষার্থীকে সফট স্কিলস, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ চর্চা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রথম ধাপে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হবে এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদেরও এর আওতায় আনা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ উচ্চশিক্ষা খাতে আমূল পরিবর্তন আনবে এবং সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের যে অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা উত্তরণে সহায়ক হবে।
এ ছাড়া ইউজিসি চেয়ারম্যান বিশ্ববিদ্যালগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ফ্যাকাল্টি এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম চালু এবং গবেষণা যন্ত্রপাতির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রিসোর্স শেয়ারিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সংশোধিত ডিপিপিতে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক ডেস্ক স্থাপন, দেশি-বিদেশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, ভার্চ্যুয়াল পাঠদান প্ল্যাটফর্ম, ক্যারিয়ার সেন্টার এবং অ্যালামনাই অফিস প্রতিষ্ঠার মতো আধুনিক ও যুগোপযোগী বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইউজিসি সদস্য মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় কমিশনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, হিট প্রকল্পের পরিচালক এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এবং দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


