রাতভর টানা ভারী বৃষ্টিতে অচল হয়ে পড়েছে কুমিল্লা নগরী। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে সোমবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় হয়েছে ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি।
এতে নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগে পড়েন হাজারো বাসিন্দা, বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার্থী, রোগী ও কর্মজীবীরা।
জলাবদ্ধতার কারণে সময়মতো পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারায় কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষার সময় আধা ঘণ্টা বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে নিচতলায় থাকা পরীক্ষার্থীদের আসন চারতলায় স্থানান্তর করা হয়। পরে শিক্ষা বোর্ড জানায়, জলাবদ্ধতার কারণে পরবর্তী পরীক্ষাগুলো আর ওই কেন্দ্রে নেওয়া হবে না।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কাজী আপন তিবরানী বলেন, পরীক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্র সচিব আব্দুল মালেক জানান, অনেক শিক্ষার্থী বৃষ্টিতে ভিজে ও জলাবদ্ধতা পেরিয়ে কেন্দ্রে এলেও পরীক্ষা নেওয়ায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।
সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে সকালেই নগরীর অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে চলে যায়। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং কর্মস্থলে যেতে ভোগান্তিতে পড়েন চাকরিজীবীরা। কাকভেজা অবস্থায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের দেখা যায়। অনেক অভিভাবক সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা গেছে জিলা স্কুল সড়ক, পুলিশ লাইনস, রেসকোর্স, চর্থা, ঠাকুরপাড়া, বিসিক শিল্পনগরী, গোবিন্দপুর, মুরাদপুর এবং শহরতলীর ছায়াবিতান এলাকায়। বিভিন্ন বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও নিচু স্থাপনায় পানি ঢুকে পড়ে। ড্রেন উপচে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
জলাবদ্ধতার সুযোগে অনেক রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক দ্বিগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায় করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভারী বৃষ্টিতে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালও জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এতে রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় বিভিন্ন কেন্দ্রে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নৌকার ব্যবস্থা করা হয়। হাঁটুসমান পানি জমে থাকা এলাকায় কর্মীরা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিরাপদে কেন্দ্রে পৌঁছাতে সহযোগিতা করেন।
পরিস্থিতি পরিদর্শনে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন।
কুমিল্লা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুর রহমান জানান, দিনভর আরও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।


