আনিস আলমগীরের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি অ্যামনেস্টি ও সিপিজের

আনিস আলমগীরের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি অ্যামনেস্টি ও সিপিজের
Advertisement
Advertisement

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীরের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহার করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন করা হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।

অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়া গবেষক রেহাব মাহামুর বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অবশ্যই আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে এবং অবিলম্বে আনিস আলমগীরকে মুক্তি দিতে হবে।

আনিস আলমগীরের গ্রেপ্তারের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এটি একটি ‘উদ্বেগজনক প্রবণতার’ বহি:প্রকাশ, যেখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডে সমর্থন আছে, এমন ধারণার ভিত্তিতে নানা জনকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

তার মতে, মানুষের মতামত প্রকাশ থামিয়ে দিতে সন্ত্রাসবিরোধী আইন অপব্যবহার না করে অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, বিশেষ করে নির্বাচনের আগে আগে।

তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংক্রান্ত দায়বদ্ধতা রক্ষার আহ্বান জানান।

গত রোববার ঢাকার ধানমন্ডির ২ নম্বর এলাকার একটি জিম থেকে বের হওয়ার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) আনিস আলমগীরকে হেফাজতে নেয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

একই রাতে জুলাই রেভ্যুলেশনারি অ্যালায়েন্সের কেন্দ্রীয় সংগঠক আরিয়ান আহমেদ অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন মারিয়া কিসপট্টা এবং ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ।

পরে ঢাকার একটি মহানগর হাকিম আদালত আনিস আলমগীরকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান।

আরও পড়ুন

গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে শপথ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। পরে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার জন্য চলতি বছরের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে।

এরপর থেকে আইনটি আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন আছে- এমন ধারণায় একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে, এমনকি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংস্থাটি রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে মানবাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষাকারী সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে আনা সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ প্রত্যাহার, নিঃশর্ত মুক্তি এবং জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় গণমাধ্যমকে লক্ষ্যবস্তু করা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক কর্মসূচির সমন্বয়কারী কুনাল মজুমদার বলেন, গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের কয়েক মাস আগে একজন সাংবাদিককে আটক করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহার করা অন্তর্বর্তী সরকারের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি অঙ্গীকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। তিনি আনিস আলমগীরের অবিলম্বে মুক্তি এবং সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের কারণে হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানান।

সিপিজে সতর্ক করেছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দোষী সাব্যস্ত হলে আনিস আলমগীরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের জরিমানার ঝুঁকি রয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, দেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে। শুধু ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতেই অন্তত ১৭টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট আইনে একাধিক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়লেও তার অনুসারীরা বিভিন্ন কৌশলে দেশে অবস্থান করে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও অবকাঠামো ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

আসামিরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশনের টকশোতে নিষিদ্ধ সংগঠনকে ফিরিয়ে আনার গুজব ছড়াচ্ছে।

এর মাধ্যমে তারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। এসব কার্যকলাপের ফলে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা উসকানি পেয়ে রাষ্ট্রবিরোধী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad