দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও টিকা সংকটের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত কয়েক বছর ধরে বিদেশ থেকে শিশুদের হামের টিকা আমদানি করা হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে বর্তমান সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইউনিসেফের সহায়তায় টিকা সংগ্রহ করেছে এবং দুই কোটি শিশুকে এই টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিনের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুঃখজনক ব্যাপার হলো, দেশে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমরা যে অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দিয়েছিলাম, তাদের সময় গত কয়েক বছর শিশুদের হামের টিকা আমদানি করা হয়নি।’
প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই যখন এই সমস্যাটি দেখা দেয়, তখন ইউনিসেফ বাংলাদেশকে অনেক সহায়তা করেছে এবং দ্রুত ভ্যাকসিন পাঠিয়েছে। আমরা প্রায় দুই কোটি শিশুকে হামের ভ্যাকসিন দেব।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে অনেক কিট দেশে পৌঁছেছে এবং কাস্টমস ও এয়ারপোর্টে থাকা কিটগুলো দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একটি কিট দিয়ে তিনটি পরীক্ষা করা সম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার দ্রুত এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুদের প্রাণহানির ঘটনাকে তিনি অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে অভিহিত করেন।
এর আগে অন্য এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী একটি বড় পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা প্রায় ২০০টি অব্যবহৃত বহুতল ভবন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
এই ভবনগুলো হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলতি মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে এগুলোকে ছোট ছোট মাতৃসদন ক্লিনিকসহ শিশু ও নারীদের চিকিৎসার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে বলেও তিনি জানান।
সংসদ চাইলে বিগত সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলার বাতিল
বিগত সরকারের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলারদের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধে সংসদ চাইলে বর্তমান ডিলারশিপ বাতিল করে নতুন ডিলার নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকার। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এ কথা জানিয়েছেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রশ্ন-উত্তর পর্ব শেষে পয়েন্ট অফ অর্ডারে চিফ হুইপ নুরুল ইসলামের এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
প্রশ্ন-উত্তর পর্বের শেষ পর্যায়ে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম ফ্লোর নিয়ে বলেন, বর্তমানে রেশনিং ও সার বিতরণের দায়িত্বে থাকা ডিলাররা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন। কৃষকরা যেন ন্যায্যমূল্যে সার পায় এবং ‘ফ্যাসিস্টদের’ দোসররা যেন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া থেকে বিতাড়িত হয়, সেজন্য পুরাতন ডিলারশিপ বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
চিফ হুইপের এই বক্তব্যের সময় উপস্থিত সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান। এরপর স্পিকারের অনুমতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘চিফ হুইপ যেটি বলেছেন, আমি লক্ষ্য করেছি পুরো সংসদ বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। এ ব্যাপারে যদি পুরো সংসদের সম্মতি থাকে, তবে সরকার দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
উর্দুভাষী নাগরিকদের স্থায়ী পুনর্বাসন
ক্যাম্পে বসবাসকারী উর্দুভাষী বাংলাদেশি নাগরিকদের স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদ সদস্য মো. আব্দুল বাতেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অধিক্ষেত্রাধীন পল্লবী থানার বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাসকারী উর্দুভাষী নাগরিকদের জন্য ইতোপূর্বে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল না। তবে বর্তমানে বিস্তারিত সমীক্ষা চালিয়ে তাদের স্থায়ী পুনর্বাসনের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, উর্দুভাষী নাগরিকদের ক্যাম্পগুলোতে ২০১৬ সালের পূর্ব পর্যন্ত ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিল বাবদ ৪০ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৫৪ টাকা বকেয়া ছিল। ২০২২ সালে আন্তঃমন্ত্রণালয় বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাজেট থেকে এই বকেয়া পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হচ্ছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে এ খাতে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা বর্তমানে পরিশোধের প্রক্রিয়াধীন।


