ঋণ পেতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণের অংশ হিসেবে জ্বালানির দাম বাড়ানো এবং ডলারের বিনিময় হার ঊর্ধ্বমুখী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র টাইমসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
চলমান সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির বকেয়া কিস্তি ছাড় এবং নতুন বাজেট সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার এখন একাধিক নীতিগত পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে জ্বালানি ভর্তুকি কমানো, বিনিময় হারকে বাজারমুখী করা, কোয়াজি-ফিসক্যাল কার্যক্রম বা পরোক্ষ সরকারি আর্থিক কার্যক্রম সীমিত করা এবং ব্যাংক ও রাজস্ব খাতে সংস্কার জোরদার করা।
এই প্রেক্ষাপটে দেড় মাস বিরতির পর আবারও বাজার থেকে ডলার কেনা শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার ও বৃহস্পতিবার পরপর দুই দিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ১২ কোটি ডলার কিনেছে, প্রতিদিনই ১২২ দশমিক ৭৫ টাকা দরে। এর আগে দীর্ঘদিন ধরে ১২২ দশমিক ৩ টাকা দরে ডলার কেনা হচ্ছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, রোববারও ডলার কেনা হতে পারে। কর্মকর্তারা বলছেন, ধাপে ধাপে বিনিময় হার বাড়িয়ে বাজারভিত্তিক পর্যায়ে নেওয়ার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যা আইএমএফের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে ভর্তুকির চাপ কমাতে ভোক্তা পর্যায়ে তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নতুন দর অনুযায়ী শনিবার রাত ১২টার পর থেকে ডিজেল লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত দামের তুলনায় সব ধরনের জ্বালানিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বেড়েছে, কেরোসিনে ১৮ টাকা, অকটেনে ২০ টাকা এবং পেট্রলে ১৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এবং সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
তবে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিবহন খরচ বাড়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ব্যয় ও ভোক্তা পর্যায়ের সামগ্রিক ব্যয়ও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রগুলো বলছে, আইএমএফের সঙ্গে চলমান আলোচনায় অগ্রগতি দেখাতে সরকার এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে। সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরেই ভর্তুকি সীমিত করা, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং বিনিময় হারকে আরও নমনীয় করার ওপর জোর দিয়ে আসছে।
জুনের বোর্ড সভাকে সামনে রেখে এখন এসব সংস্কারের গতি বাড়ানো হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপগুলোর বাস্তবায়ন কত দ্রুত ও কতটা কার্যকর হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে আইএমএফের ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড় এবং নতুন অর্থায়নের ভবিষ্যৎ।
চলমান ঋণ প্যাকেজের ১.৩ বিলিয়ন ডলার ও বাজেট সহায়তা হিসেবে আরো ২ বিলিয়ন ডলার আইএমএফের কাছে প্রত্যাশা করছে সরকার।


