নাব্য সংকট, দূষণ আর অবৈধ দখলে প্রায় মরা খালে রূপ নিয়েছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে চলা এক সময় খরস্রোতা নদী ছোট যমুনা। প্রশাসনের উদাসীনতা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি এখন স্থানীয়দের ময়লা ফেলার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফুলবাড়ী পৌর এলাকার বড় ব্রিজ এবং বাজার সংলগ্ন ফুট ওভারব্রিজের নিচে নিয়মিত গৃহস্থালি ও কাঁচাবাজারের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও এখানে দিনে দুবার ময়লা ফেলেন।
গত তিন-চার বছর ধরে এই প্রক্রিয়া চলায় নদীর তলদেশে আবর্জনার স্তূপ জমেছে। এই স্তূপ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
প্রবীণদের মতে কয়েক দশক আগেও এই নদীতে সারা বছর পানি থাকত, নিয়মিত নৌকা চলাচল করত। সে সময় কৃষি সেচ ও মাছ ধরার প্রধান উৎস ছিল এই নদী। বর্তমানে নাব্য কমে যাওয়ায় ও পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে নদীটি প্রায় পানিশূন্য হয়ে পড়ে। এছাড়া নদীর তীর দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় নদীটি ক্রমে সরু হয়ে আসছে।
নদীতে বর্জ্য ফেলার বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ থাকলেও তা অস্বীকার করেছেন ফুলবাড়ী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী লুৎফুল হুদা চৌধুরী। তিনি বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে নদীতে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে না। তবে সাধারণ মানুষ সেখানে ময়লা ফেলতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
লুৎফুল হুদা চৌধুরী জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য জাইকা প্রকল্পের প্রায় দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ এসেছিল। জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে সেই টাকা আবার ফেরত গেছে।
অন্যদিকে ফুলবাড়ী পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামিউল ইসলাম বলেন, নদীতে বর্জ্য ফেলার বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাস দেন।
দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ বলেন, নদীদূষণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি ছোট যমুনার দূষণ রোধে প্রয়োজনে ফুলবাড়ী পৌরসভাকে বিষয়টি অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
ফুলবাড়ী সম্মিলিত সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি হামিদুল হকসহ স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত নদী খনন ও বর্জ্য ফেলা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। পরিবেশবিদদের মতে, দ্রুত পরিকল্পিত উদ্যোগ না নিলে এই অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থেকে উৎপত্তি হয়েছে ৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ছোট যমুনা নদী। এটি পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, বিরামপুর ও হাকিমপুর হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে। পরবর্তীতে নদীটি আবার বাংলাদেশে প্রবেশ করে নওগাঁর আত্রাই নদীতে মিলিত হয়েছে। ফুলবাড়ী অংশে এই নদীর গড় প্রস্থ ১০৫ মিটার এবং গভীরতা ৬ মিটার।


