রাজধানী ঢাকার মতিঝিলে চাঁদাবাজি ও গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত শ্যুটার তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি এবং তার চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগ। এ সময় তাদের কাছে থেকে তিনটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
শনিবার সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় ডিএমপি।
তানিম রেজা বাপ্পি শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের সহযোগী ও তার অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে মতিঝিলের হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী উত্তর কমলাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রযুক্তির সহায়তায় আরও এক সহযোগী গ্রেপ্তার হন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি (৪৬), মোহাম্মদ জুয়েল (৪৮), শাকিল (২৭), মো. মানিক কাজী (৫০) ও রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজন (৩৫)।
মতিঝিল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের এক ইজারাদার ব্যবসায়ীর অফিস লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। ১৫ মে একই ব্যবসায়ীর কাছে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা হওয়ার পর তদন্তে তানিম রেজা বাপ্পি ও তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পায় পুলিশ। তবে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গভীর রাতে দক্ষিণ কমলাপুরে বাপ্পির অফিসে অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি বিদেশি রিভলভার, দুটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড রিভলভারের গুলি, দুই রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুইটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক শক গান এবং একটি বিদেশি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় অস্ত্র আইনে আলাদা একটি মামলা হয়েছে।
মতিঝিল বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি একজন অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন গুলিবর্ষণের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। এছাড়া মতিঝিল এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে। তানিম রেজা বাপ্পির বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অপহরণ, হত্যা চেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট সাতটি মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া ও অন্য সহযোগীকে গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।


