হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ৬০০ ছাড়াল

হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ৬০০ ছাড়াল
হাসপাতালে হাম আক্রান্ত এক শিশুর সঙ্গে স্বজনরা। ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/টাইমস
Advertisement
Advertisement

দেশে গত আড়াই মাসে নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০১ জনে। এর মধ্যে সন্দেহজনক হামে মারা গেছেন ৫১১ জন এবং ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা ৯০ জন।

বুধবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম (সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র) থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২১০ জন সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা ছিল ৫৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন অবস্থা থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ১৩০ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৫৭২ জনে। ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত শনাক্ত হয়েছেন ৯ হাজার ১৯১ জন। সেই সঙ্গে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৬০ হাজার ১৫৮ জন রোগী। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৯৪২ জন। অর্থাৎ ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সুস্থতার হার প্রায় ৯৩ শতাংশ।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হামের প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই ঢাকা বিভাগ ও ঢাকা জেলা মৃত্যু এবং সংক্রমণের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে।

বিভাগভিত্তিক সামগ্রিক তথ্যে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে এ ‍পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার ২৩ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে (২৪ ঘণ্টায় ৫২৬ জন)। এখানে মোট মৃত্যু হয়েছে ২১০ জনের। নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৪২৬ জন, যার মধ্যে নিশ্চিত মৃত্যু হয়েছে ৫৪ জনের।

আরও পড়ুন

চট্টগ্রাম বিভাগে মোট সন্দেহজনক আক্রান্ত ১২ হাজার ২২৪ জন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৪৫। নিশ্চিত আক্রান্ত ৬৯৬ জন এবং মৃত্যু দুইজন। রাজশাহী বিভাগে মোট সন্দেহজনক আক্রান্ত ৬ হাজার ৬০৮ জন এবং মৃত্যু ৮৫ জন। নিশ্চিত আক্রান্ত ১৬৪ জন। বরিশাল বিভাগে মোট সন্দেহজনক আক্রান্ত ৬ হাজার ৭৮৬ জন এবং মৃত্যু ৩৭। নিশ্চিত আক্রান্ত ২৫৪ জন ও নিশ্চিত মৃত্যু ১৯ জন। সিলেট বিভাগে মোট সন্দেহজনক আক্রান্ত ৩ হাজার ৭৪৯ জন এবং মৃত্যু ৬০ জন। নিশ্চিত আক্রান্ত ৩ জন। ময়মনসিংহ বিভাগে মোট সন্দেহজনক আক্রান্ত ৩ হাজার ২২৩ জন এবং মৃত্যু ৪৬ জন। নিশ্চিত আক্রান্ত ১০ জন। খুলনা বিভাগে মোট সন্দেহজনক আক্রান্ত ৫ হাজার ৫০৫ জন এবং মৃত্যু ২২ জন। নিশ্চিত আক্রান্ত ২১৫ জন ও নিশ্চিত মৃত্যু ৬৭ জন।

সবচেয়ে কম প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে রংপুর বিভাগে। এখানে সন্দেহজনক আক্রান্ত ১ হাজার ৪৫৪ জন এবং মৃত্যু ছয়জন। নিশ্চিত আক্রান্ত মাত্র দুইজন।

হামের এই উদ্বেগজনক প্রাদুর্ভাব রোধে সরকার ঘোষিত ‘জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি ২০২৬’ বাস্তবায়িত হচ্ছে।অধিদপ্তর জানায়, সারা দেশে ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এ পর্যন্ত ১ কোটি ৮৪ লাখ ৫৫ হাজার ৬৫৩ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ দেশব্যাপী গড় কাভারেজ দাঁড়িয়েছে ১০২%।

সিলেট বিভাগ বাদে বাকি সাতটি বিভাগেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে সর্বোচ্চ ১০৩% কাভারেজ অর্জিত হয়েছে। বরিশাল ও খুলনায় ১০১% এবং ময়মনসিংহে ১০২% কাভারেজ অর্জিত হয়েছে। সিলেট বিভাগে কাভারেজ ছিল ৯৯%।

দেশের ১২ সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ লাখ ৫ হাজার ৯৫০ জন শিশু। এর বিপরীতে ২০ লাখ ২১ হাজার ৩৩০ জন শিশুকে সফলভাবে টিকা দেওয়া হয়েছে (কাভারেজ ১০৬%)। সবচেয়ে বেশি কাভারেজ অর্জিত হয়েছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে (১১৩%)। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ১০৯%, চট্টগ্রামে ১০৭% এবং নারায়ণগঞ্জে ১০৫% কাভারেজ নিশ্চিত করা হয়েছে। শুধুমাত্র রংপুর সিটি করপোরেশনে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সামান্য পিছিয়ে (৯৯%) রয়েছে টিকাদানের হার।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাপক হারে টিকাদানের এই ধারা অব্যাহত থাকলে দ্রুতই সংক্রমণের গতি কমে যাবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad