রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের ছাত্রাবাসে সংঘর্ষে আহত ছাত্র সাকিবুল ইসলাম রানা মারা গেছেন। মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত দফায় দফায় এই সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুরুতর আহত সাকিবুলকে সোহরাওয়াদী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয় কর্তৃপক্ষ।
বুধবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাকিবুলের মৃত্যু হয়। নিহত সাকিবুল তেজগাঁও কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। তার বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুরে।
তবে কলেজ ছাত্রাবাসকে কেন্দ্র করে মাদক সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ কখনো পাননি বলে জানিয়েছেন তেজগাঁও কলেজের অধ্যক্ষ শামীমা ইয়াসমিন।
বুধবার টাইমস অব বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘খুবই দুঃখজনক ঘটনা। কীভাবে কী হয়ে গেল বুঝতে পারছি না। আমি নিয়মিত হোস্টেলে রাউন্ডে যেতাম। কখনো কেউ আমাকে মাদক সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেনি।’
তার দাবি, ঘটনার পর হোস্টেল পরিদর্শনে গেলে শিক্ষার্থীরা তাকে বলেছেন. সেদিনই এরকম ঘটনা প্রথম ঘটেছে।
তবে তেজগাঁও কলেজের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় ছাত্রাবাসের ছাদে মাদক সেবন করতে গিয়েছিলেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। কিন্তু ছাত্রাবাসেরই অন্য শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতে আবারও দুই গ্রুপ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ঘটে। শেষ রাতে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।
তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাসে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় আইডিয়াল কলেজের জান্নাত নামের একজন শিক্ষার্থীও আহত হয়ে সোহরাওয়াদী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহত জান্নাত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি প্রভাব খাটিয়ে মাঝে মাঝে এই ছাত্রাবাসে অবস্থান করতেন বলেও অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
তবে তেজগাঁও কলেজের ছাত্রাবাসে আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীর অবস্থান করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন হোস্টেল সুপার মো. জহিরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘সিগারেট খাওয়া নিয়ে হোস্টেলের বাইরে ছাত্রদের দুই গ্রুপের ভেতর গণ্ডগোল হয়েছিল। তা রাত সাড়ে আটটার দিকে মীমাংসাও হয়েছিল। কিন্তু পরে রাত দেড়টার পর দুই শতাধিক বহিরাগত তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাসে ঢুকে হামলা চালায়।’
নিহত সাকিবুল ইসলাম রানাকে নিরীহ ছেলে অভিহিত করেছেন হোস্টেল সুপার। তার মতে, ‘দুই গ্রুপের মারামারির মধ্যে পড়েছিল সে।’
শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ সূত্র জানায়, শনিবারের ছাত্রবাসে সংঘর্ষে ঘটনায় নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। পরিস্থিতি শান্ত করে পুলিশ ফিরে গেছে। আহত শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ জানায়নি থানায়।


