রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা ও মারধরের ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান মাহিনের বাবা আসাদ উজ জামান বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ও ছাত্রশিবিরের নয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করার পর সেটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে পাঠিয়েছেন বিচারক।
বুধবার রাজশাহীর মতিহার কগনিস্যান্স আদালতে এই মামলার আবেদন করা হয়।
এতে আসামি করা হয়েছে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার, এজিএস সালমান সাব্বির, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব, সহতথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সিফাত আবু সালেহ, ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীব, সিনেট সদস্য ফাহিম রেজা, জিয়া হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম, শহীদ হবিবুর রহমান হল সংসদের ভিপি আহসান উল্লাহ ফারহান এবং নবাব আব্দুল লতিফ হল সংসদের জিএস নুরুল ইসলাম শহীদকে। আরও ১৭ থেকে ১৮ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
আসাদ উজ জামান অভিযোগ করেন, গত সোমবার তিনি বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফেসবুকের মাধ্যমে তার ছেলের ওপর হামলার কথা জানতে পারেন। পরে হাসপাতালে গিয়ে ছেলেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখতে পান। পরদিন মতিহার থানায় মামলা করতে গেলে ওসি মামলা নেননি। পরে তিনি আদালতে এসে অভিযোগ করেন।
আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভেতর ও বাইরে ছুরি, রড, বেলচা ও বাঁশের লাঠি নিয়ে একদল ব্যক্তি মাহিনকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করেন। সেখানে সালাউদ্দিন আম্মার লোহার রড দিয়ে তার মাথা ও কপালে আঘাত করেন। সালমান সাব্বিরও রড দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তা বাম চোখে লাগে এবং গুরুতর জখম হয়।
অন্য আসামিরা বুক, পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এতে লেখা হয়, চারজন আসামি তাকে মাটিতে ফেলে বুক ও গলায় চাপ দিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন।
বাদী জানান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও উপস্থিত লোকজন মাহিনকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করলে আসামিরা তাকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে টেনে নামিয়ে পুনরায় মারধর করেন। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
বাদীর পক্ষের আইনজীবী হজরত আলী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত অভিযোগটি সরাসরি নেয়নি। তদন্তের জন্য পিবিআইকে পাঠিয়েছেন।’


