ব্রিটিশ মানবাধিকার কর্মী ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান বলেছেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের আটকাদেশ আবারও প্রমাণ করে বাংলাদশের বিচারব্যবস্থা ভয়াবহ রাজনীতিকীকরণের শিকার।
তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের আটকাদেশ আবারও প্রমাণ করে বিচারব্যবস্থা ভয়াবহ রাজনীতিকীকরণের শিকার। আর এটা সরকার হয় প্রশ্রয় দিচ্ছে নয়তো চোখ বন্ধ করে আছে।’
শনিবার এক ফেসবুক পোস্টে এই মানবাধিকার কর্মী ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক এসব কথা বলেন। এ পোস্টে তিনি বেশকিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হুবহু তুলে ধরা হলো-
১. আটকাদেশ ভিত্তিহীন: খায়রুল হককে যে হত্যাকাণ্ডে আটক করা হয়েছে। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাকে যুক্ত করার মতো কোনো প্রমাণ নেই।
২. নির্বিচার আটক: যেসব পুলিশ কর্মকর্তা খায়রুল হককে আটক করেছেন, যারা নির্দেশ দিয়েছেন এবং যে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে জেলে পাঠিয়েছেন—তাদের সবাই, এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রত্যেক সদস্য জানেন, কোনো প্রমাণ নেই এবং ভবিষ্যতেও কোনো প্রমাণ পাওয়া যাবে না। তাই এই গ্রেপ্তার আইনি বা বাস্তব কোনো কারণেই সমর্থনযোগ্য নয়। এটি ন্যায়বিচারের মূলনীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং একটি নির্বিচার আটক।

৩. রাজনৈতিক প্রতিশোধই মূল উদ্দেশ্য: ২০১১ সালের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অসাংবিধানিক ঘোষণার কারণে হকের এই আটককে ব্যাপকভাবে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই রায় আওয়ামী লীগকে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার আইনি ভিত্তি দিয়েছিল। তার গ্রেপ্তারকে যারা সমর্থন করছেন, তারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তা করছেন।
৪. বিচারিক রায়ের ভিত্তিতে মামলা নয়: ২০১১ সালের রায়টি অত্যন্ত বিতর্কিত ছিল এবং এর উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক প্রভাব পড়েছিল। কিন্তু এটি একটি আইনগত রায় ছিল। আর এ রায় দেওয়ার অধিকার বিচারপতি খায়রুল হকের ছিল। শুধুমাত্র বিচারিক সিদ্ধান্তকে অজুহাত করে অপরাধ মামলা—তার ওপর হত্যা মামলার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা—বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত।
৫. বিপজ্জনক নজির: যদিও বিচারকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মতো অপরাধের কারণে মামলা করা যেতে পারে। এখানে এমন কোনো অভিযোগ বা প্রমাণ নেই। একটি অজনপ্রিয় বিচারিক রায়ের কারণে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে বিচার করা এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত তৈরি করছে। এর ফলে বিচারিক সিদ্ধান্তগুলো কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকারই হবে না (যেমন-আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রধান বিচারপতি সিনহাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল), বরং নির্বিচার আটকও ঘটবে।
পরিশেষে তিনি পোস্টে লেখেন: ‘যদি বাংলাদেশ সরকার বা বিচার বিভাগ জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের দায়বদ্ধতা প্রক্রিয়ার সামান্যতম বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে চায়, তবে অবিলম্বে সাবেক প্রধান বিচারপতির মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।’


