লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে গ্রীস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১১ বাসিন্দার মৃত্যুর ঘটনায় মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিরাই ও জগন্নাথপুর থানায় ওই দুই মামলা করেন নিহতদের স্বজনরা।
দুই মামলায় নয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জের দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী ও জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার সুনামগঞ্জের দিরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশী জগদল ইউনিয়নের বাসুরী গ্রামের সোহানুর রহমান এহিয়ার বাবা ছালিকুর রহমান। মামলার আসামিরা হলেন-দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের বাসিন্দা মুজিবুর মিয়া, জগদল গ্রামের ইতালি প্রবাসী সালেহ আহমেদ, জগন্নাথপুর উপজেলার টিয়ারগাও গ্রামের ছায়েক আহমেদ ও ছাতক উপজেলার জসিম মিয়া।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশি অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যুর ঘটনায় একই দিনে জগন্নাথপুর থানায় আরও একটি মামলা করেন জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁওয়ের নিহত আমিনুর রহমানের বাবা হাবিবুর রহমান।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, মামলায় পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। যাদের মধ্যে তিনজনের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা জানা গেছে এবং বাকিদের শুধু নাম আছে। আসামিরা হলেন লিবিয়া প্রবাসী জসীম, ইছগাঁও গ্রামের আজিজুল, এবং বিলাল, দুলাল ও এনাম।
গত ২১ মার্চ লিবিয়ার তবরুক বন্দর থেকে গ্রিসের উদ্দেশে অর্ধশতাধিক অধিবাসী নিয়ে একটি নৌকা যাত্রা শুরু করে। ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় যাত্রা শুরু হলেও মাঝ সাগরে পথ হারিয়ে ফেলে নৌকাটি। টানা ছয়দিন ভাসতে থাকে সেটি।
খাবার ও পানির সংকটে একসময় অসহায় হয়ে পড়েন যাত্রীরা। ক্লান্তি, ক্ষুধা ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় একে একে নিভে যায় প্রাণ। অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয় নৌকাতেই। পরে দালালদের নির্দেশে মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। উদ্ধার হওয়া কয়েকজনকে গ্রিসের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহতদের মধ্যে ১১ জনের বাড়ি সুনামগঞ্জের জেলার দিরাই, জগন্নাথপুর, দোয়ারাবাজার উপজেলায়। নিহতদের পরিবারগুলোর অভিযোগ, দালালচক্রের মিথ্যা আশ্বাসে পড়ে তাঁরা এই বিপজ্জনক পথে পা বাড়ান। প্রথমে কম টাকার প্রলোভন দেখানো হলেও পরে ধাপে ধাপে বাড়ানো হয় খরচ। অনেক ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।


