সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে দুই সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার রাত ৯টার দিকে হাসপাতালের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিকরা হলেন সিলেট ভিউয়ের প্রতিবেদক নিবেন্দু তালুকদার ও শ্যামল সিলেটের আলোকচিত্র সাংবাদিক রেজা রুবেল। ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই নগরের চৌহাট্টা পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সাংবাদিকরা।
এদিকে সংঘর্ষের পর প্রায় দুই ঘণ্টা হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এতে দুর্ভোগে পড়েন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা।
জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমার সিলাম এলাকার এক রোগীর অস্ত্রোপচারকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে রোগীর স্বজনদের মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিক নিবেন্দু তালুকদার ও রেজা রুবেলের ওপর হামলা করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। স্যালাইনের স্ট্যান্ড দিয়ে দুই সাংবাদিককে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া এক নারীসহ রোগীর কয়েকজন স্বজন আহত হন।
সংঘর্ষের পর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ফটক বন্ধ করে লাঠিসোঁটা হাতে অবস্থান নেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। এ সময় জরুরি বিভাগসহ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালের ভেতরে থেমে থেমে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মঈনুল জাকির বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এ বিষয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু জাফর মো. খালেদ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এদিকে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বুধবার গভীর রাতে নগরের চৌহাট্টা পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা। এতে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতারাও অংশ নেন।
কর্মসূচি থেকে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিলেটের সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতারা বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করবেন বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।
ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ইমজা) সাধারণ সম্পাদক আনিস রহমান বলেন, মানুষের দুর্ভোগ ও অনিয়মের তথ্য তুলে ধরতে সাংবাদিকেরা সংবাদ সংগ্রহ করেন। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের ওপর হামলার কোনো যৌক্তিকতা নেই। একই সঙ্গে রোগীর স্বজনদের মারধরের অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমদ বলেন, ঘটনার পর হাসপাতালের পরিচালক, উপপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকরা যাতে নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সভাপতির বক্তব্যে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম চৌধুরী নোবেল বলেন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনা আগেও ঘটেছে। এসব ঘটনার অবসান হওয়া প্রয়োজন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে মানুষের ক্ষোভ বাড়বে।


