জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহের ভক্তরা তার হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এটি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে হত্যার মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে পাঁচটি দাবি উত্থাপন করা হয়।
আয়োজকদের মধ্যে থেকে মাসুদ রানা নকীব এই দাবিগুলো জানান। এগুলো হলো—পিবিআই প্রতিবেদনে উল্লেখিত পাঁচটি কারণ পুনরায় খতিয়ে দেখা এবং র্যাবের তদন্ত স্থগিত রেখে কেন পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তা যাচাই করা; পিবিআই প্রতিবেদনের অসঙ্গতিগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করা; অভিযুক্ত আসামিদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা এবং কেউ যেন আগাম জামিন না পায়; ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেওয়া; দেশের বাইরে পালিয়ে থাকা আসামিদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফিরিয়ে এনে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা; এবং ডিবি ও সিআইডি থেকে আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করে কেন ভুল রিপোর্ট দেওয়া হয়েছিল, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সালমান শাহের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর একে একে থানা-পুলিশ, সিআইডি, র্যাব, পিবিআইসহ একাধিক সংস্থা তদন্ত চালায়। সব প্রতিবেদনেই ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হলেও সালমানের পরিবারের আপত্তিতে প্রতিবারই তদন্ত সংস্থা পরিবর্তন করা হয়।
মাত্র ২৫ বছরের জীবনে সালমান শাহ ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন—সব কটিই বাণিজ্যিকভাবে সফল। নব্বইয়ের দশকে দেশের চলচ্চিত্রে রোমান্টিক হিরোর নতুন ধারা শুরু হয় তার হাত ধরে। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘বিক্ষোভ’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘প্রেমযুদ্ধ’সহ প্রতিটি সিনেমাই বক্স অফিসে হিট হয়।


