সঞ্চয়পত্র, এ-চালানসহ চার ধরনের সেবা বন্ধ করে দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয়। ফলে এখন থেকে আর বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই কার্যালয় থেকে সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন না গ্রাহকরা।
আগামী বৃহস্পতিবার থেকে এসব সেবা নিতে হবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। ধীরে ধীরে এসব কার্যক্রম ব্যাংকটির সব শাখা থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তক্রমে আগামী ২০ নভেম্বরের কার্যদিবস শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস হতে সঞ্চয়পত্র ও প্রাইজবন্ড বিক্রয়, ছেঁড়া-ফাটা নোট বিনিময় এবং এ-চালানসহ তৎসংশ্লিষ্ট সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।’
বিশ্বের কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কাউন্টর থেকে সরাসরি সাধারণ মানুষকে এ ধরনের সেবা দেওয়া হয় না উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে আরও লেখা হয়েছে, ‘কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রাহক সংশ্লিষ্ট এই সকল সেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
তবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যেন নির্বিঘ্নে জনসাধারণকে এসব সেবা দেয় তা নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়ানো হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের নিচেই সংস্থাটির মতিঝিল কার্যালয়। ১৯৮৫ সাল থেকে এই কার্যালয় থেকে এসব সেবা দিয়ে আসছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
জানা গেছে, ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সব শাখা কার্যালয় থেকে এ ধরনের সব সেবা বন্ধ করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয়সহ বিভিন্ন শাখা কার্যালয় থেকে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে সঞ্চয়পত্র, প্রাইজবন্ড কেনাবেচাসহ ১০ ধরনের সেবা দেওয়া হয়। এতদিন মতিঝিল কার্যালয়ের ২৮টি কাউন্টারের মাধ্যমে এসব সেবা নিতে পেরেছেন জনসাধারণ।
তবে মতিঝিল কার্যালয় আধুনিকায়ন, উন্নত নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্বলিত স্বয়ংক্রিয় ভল্ট স্থাপন এবং মূল ভবনের নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নতির জন্য ১২টি কাউন্টার বৃহস্পতিবারের পরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
তবে মতিঝিল কার্যালয়ের ১৬টি কাউন্টারে কিছু সেবা মিলবে। এগুলো হলো ধাতব মুদ্রা বিনিময়, স্মারক মুদ্রা বিক্রয়, অপ্রচলিত নোট বিরোধ নিষ্পত্তি, ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন প্রভৃতি। এসব সেবা ভবিষ্যতে কীভাবে বন্ধ করা যায়, তা–ও চূড়ান্ত করার জন্য সম্প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিভাগে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা থেকেও ধীরে ধীরে এসব সেবা বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা–সংক্রান্ত কেপিআই নিরাপত্তা নীতিমালা অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো কেপিআই হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশ ব্যাংক কেপিআই হিসেবে উচ্চ নিরাপত্তা স্তরভুক্ত। কেপিআই প্রতিষ্ঠানে জনসাধারণের প্রবেশাধিকার থাকে না কিংবা নিয়ন্ত্রিত থাকে।


