ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের একজন গাড়িচালক আত্মহত্যা করেছেন। তার নাম মো. সিহাব উদ্দিন। তিনি বগুড়া জেলার ধুনট থানার নাংলু গ্রামের বাসিন্দা। তার মূল কর্মস্থল ছিল সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী নদী ফায়ার স্টেশন। তবে তিনি সায়দাবাদ পাওয়ার প্লান্ট ফায়ার স্টেশনে কর্মরত ছিলেন।
ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার দুপুরে ফায়ার স্টেশনের সদস্যরা গোসল করতে গেলে সিহাব ড্রাইভারদের জন্য নির্ধারিত কোয়ার্টারের একটি কক্ষে ছিলেন। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অন্য বাসিন্দারা কক্ষে প্রবেশ করে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
কয়েকজনকে চাকরি দেওয়ার জন্য এক কর্মকর্তাকে ৮৫ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার পরও তাদের চাকরি না হওয়া, যোগাযোগ রক্ষা না করা এবং এ নিয়ে মনোমালিন্যের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেছে তার পরিবার।
শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সায়দাবাদ পাওয়ার প্লান্ট ফায়ার স্টেশনের ড্রাইভার কোয়ার্টার থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিহাবের পরিবার জানায়, ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন পদে কয়েকজনের চাকরির জন্য প্রায় এককোটি টাকা ঘুষ দেওয়া হলেও কারও চাকরি হয়নি। টাকা নিয়ে চাকরি না দিয়ে পরে যোগাযোগ রক্ষা না করা, ওই কর্মকর্তার সঙ্গে মনোমালিন্য ও হতাশা থেকে সিহাব আত্মহত্যা করতে পারেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক(প্রশাসন ও অর্থ) মো. শহীদ আতাহার হোসেন বলেন, ‘কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। ফায়ার সার্ভিসের মধ্যে অনেক ‘‘দুষ্ট’’ লোক আছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় তারা এ ধরনের অপতথ্য ছড়াচ্ছেন।’
এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে পুলিশ। মামলার বাদী ফায়ার সার্ভিসের লিডার মো. মমিন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর বজলুর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে হতাশা থেকেই আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর মূল কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’


