নির্বাচনী মাঠের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কার্যকর প্রচারণার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বেছে নিয়েছেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা। ফেসবুক লাইভ, পোস্ট, ছবি ও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তারা সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, তুলে ধরছেন নিজের অবস্থান ও প্রতীক। এতে একদিকে যেমন জনসংযোগের পরিধি বাড়ছে, অন্যদিকে ভোটারদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক মতবিনিময়ের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর-পাহাড়তলী-খুলশী এলাকা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাইদ আল নোমানের নির্বাচনী প্রচারণা ও জনসংযোগের বিভিন্ন ভিডিও ফেসবুকে নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে। দলীয় কর্মসূচি, ভোটারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও পথসভাগুলোর দৃশ্য তুলে ধরা হচ্ছে এসব ভিডিওতে। একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সামসুজ্জামান হেলালির প্রচারণাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখে পড়ছে। তিনি অনলাইনে নিজের প্রতীক ও নির্বাচনী বার্তা তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন চাইছেন।
বন্দর ও পতেঙ্গা এলাকা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর পক্ষে ‘চট্টগ্রাম ১১’ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সেখানে তার জনসংযোগ, পথচলা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাতের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে। একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শফিউল আলম তার নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
নগরীর কোতোয়ালি ও বাকলিয়া এলাকা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ানের পক্ষে ‘আবু সুফিয়ান চিটিজি’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সেখানে নির্বাচনী কার্যক্রমের পাশাপাশি ভোটারদের উদ্দেশে বার্তাও প্রকাশ করা হচ্ছে। একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ফজলুল হক তার নিজের নামের ফেসবুক আইডিতে নিয়মিত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উপকূলীয় এলাকার আসনগুলোতেও অনলাইন প্রচারণার গুরুত্ব বাড়ছে। চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের প্রার্থীরা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজেদের প্রতীকের গুরুত্ব তুলে ধরে ভোট চাইছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে দ্বীপাঞ্চল ও দুর্গম এলাকার ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করছেন তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা প্রার্থীদের সঙ্গে ভোটারদের দূরত্ব কমিয়ে আনছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী নিয়াজ উদ্দীন বলেন, ‘সাধারণ ভোটার বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও প্রবাসীদের কাছে পৌঁছাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে, অনলাইন প্রচারণা যতই শক্তিশালী হোক, মাঠের রাজনীতির বিকল্প নয়। বাস্তব জনসংযোগ ও ভার্চ্যুয়াল প্রচারের সমন্বয়ই প্রার্থীদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করতে পারে।’
সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনেই এবার নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। লাইভে জনসংযোগ, কমেন্টেবক্সে প্রশ্ন-উত্তর এবং নিজের প্রতীকের পক্ষে ভোট চাওয়ার এই ভার্চুয়াল প্রচার ক্রমেই নির্বাচনী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।


