জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রীকে বাসায় ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর ৯৯৯-এ কলের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ৫৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত তারিকুল ইসলাম ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনোলজি (আইআইটি) বিভাগের ৪৪তম আবর্তনের সাবেক শিক্ষার্থী। তার বাড়ি জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জরুরি কথা বলার কথা বলে অভিযুক্ত হল গেট থেকে ওই ছাত্রীকে নিয়ে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, বাসায় নিয়ে তার হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়, হাতে গরম পানি ঢেলে দেওয়া হয় এবং সিগারেট দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। চিৎকার রোধে মুখে টেপ লাগানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে অভিযুক্ত বাইরে গেলে ভুক্তভোগী নিজেকে মুক্ত করে চিৎকার করেন। প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে তিনি ৯৯৯-এ কল দেন।
প্রতিবেশীদের একজন জানান, শুরুতে বিষয়টি ব্যক্তিগত বিরোধ মনে হলেও পরে পরিস্থিতি গুরুতর বুঝতে পেরে তারা জড়ো হন। এ সময় অভিযুক্ত দরজা ড্রিল মেশিন দিয়ে কাটার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ আসার আগেই তিনি ছাত্রীর মোবাইল ফোন ও নিজের ল্যাপটপ নিয়ে পালিয়ে যান।
জাবি চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক তানভীর হোসেন জানান, ভুক্তভোগীর হাতে পোড়া ক্ষত পাওয়া গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবেল হাওলাদার বলেন, ‘৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। সেখান থেকে দড়ি, একটি হাতুড়ি এবং অভিযুক্তের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মারধর ও ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন। মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


