সিলেটে কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ থেকে লুট হওয়া সব সাদাপাথর সাত দিনের মধ্যে আগের জায়গায় ফেলার নির্দেশ দিয়ে এ ঘটনায় জড়িতদের তালিকা চেয়েছে হাইকোর্ট।
এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।
এদিন সকালে নির্বিচারে এ অঞ্চলের সাদাপাথর লুটের ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মীর একে এম নূরুন নবী হাইকোর্টে আর একটি রিট করেন। ১৭ আগস্ট ওই রিটের শুনানির দিন ধার্য করে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

এতে বলা হয়, ‘সিলেটের সাদাপাথর এলাকা একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। বড়, মাঝারি কিংবা ছোট পাথরের মধ্য দিয়ে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট জলধারাই ছিল এই পর্যটনকেন্দ্রের অন্যতম আকর্ষণ। গত চার মাস ধরে সেখানে প্রকাশ্যে লুট হয়েছে ছোটবড় সব পাথর।’
স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে প্রকাশ্যে চলেছে এই লুটপাট, যা শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয় বরং পর্যটন শিল্পকেও ফেলেছে হুমকির মুখে ।
ওই রিটে এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনেরও দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া পাথর লুটের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তা ও তার ব্যাখ্যা চেয়েও একটি রুল জারির কথা বলা হয়েছে রিটে।

সেই সঙ্গে লুটের ঘটনা তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রসচিব ছাড়াও এতে বিবাদী করা হয়েছে পরিবেশ সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), সিলেট জেলা প্রশাসক, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) ১০ জনকে।
ভোলাগঞ্জে এক বছরে সাদাপাথর এলাকায় নজিরবিহীন লুটপাটের ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয় প্রশাসনের সামনে দিনেদুপুরে এসব পাথর তোলা হলেও, তারা মূলত নীরব ছিল বলেই বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ জানানো হয়। বর্তমানে চুরি হওয়া পাথর আগের স্থানে ফেরত আনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২৪ ঘণ্টা সেখানে যৌথবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে প্রশাসন।


