সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে রংপুর রাইডার্সকে নিজ হাতে যেন ম্যাচটা তুলে দিলেন সিলেট টাইটান্স অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। শুক্রবার জয়ের জন্য শেষ পাঁচ ওভারে তখনো ৪৯ রান দূরে রংপুর। নিজে বোলিংয়ে এসে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কাছে তিন চার ও এক ছক্কায় ১৯ রান দিয়ে দলকে ছিটকে দেন জয় থেকে। যে মাহমুদউল্লাহ এক ম্যাচ আগে শেষ বলে এক রান নিতে পারেননি, যার ফলে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সেই মাহমুদউল্লাহর ১৬ বলে ৩৪* রানের দারুণ ইনিংসে ৭ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে জিতল রংপুর। এ যেন অভিজ্ঞ এই ডানহাতি ব্যাটারের চক্রপূরণ।
১৪৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে চাপে পড়ে রংপুর। পাওয়ারপ্লে শেষ করে এক উইকেটে ৩১ রানে। মিডল ওভারে নাসুম-খালেদদের চেপে ধরা বোলিংয়ে ৯ ওভার শেষে তাদের রান হয় ৪৬। তবুও শেষের হাসি হেসেছে রংপুর। লিটনের ব্যাট থেকে এসেছে ২৫ বলে ৩৫ রানের ইনিংস। কাইল মায়ার্স করেন ২৯ বলে ৩১। শেষদিকে মাহমুদউল্লাহর সাথে খুশদিল শাহ গড়েন ২৪ বলে ৫০* রানের জুটি।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নামা সিলেটকে শুরুতেই চেপে ধরেন রংপুরের বোলাররা। আলিস আল ইসলামের সাথে ফাহিম আশরাফ ও মোস্তাফিজুর রহমানের দারুণ বোলিংয়ে ৩৫ রানের মধ্যেই প্রথম তিন ব্যাটারকে হারায় সিলেট। সাইম আইয়ুব ফিরেছেন আলিসের বলে। তিনে নেমে অধিনায়ক মিরাজও ৪ রানের বেশি করতে পারেননি। রনি তালুকদার পাল্টা আক্রমণ করলেও ফাহিমের দারুণ এক ইনসুইংগারে ১৪ বলে ১৯ রানে বোল্ড হন এই ডানহাতি ওপেনার।
চার নম্বরে নেমে টানা দুই ফিফটি ও শেষ ম্যাচে ৪৪ রানের ইনিংস খেলা পারভেজ ইমনও আজ সুবিধা করতে পারেননি। নাহিদ রানার বদলে একাদশে আসা মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর বলে বোল্ড হয়েছেন ইনসাইড এজে। ১৪ বলে ২ চারে ১৯ রান করেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
সিলেট লড়াইয়ের রসদ পেয়েছে আফিফ হোসেন ধ্রুব আর ইথান ব্রুকসের ৫০ বলে ৬৬ রানের জুটিতে। গুরুত্বপূর্ণ এই জুটি ভেঙেছে মোস্তাফিজের বলে ব্যক্তিগত ৪৬ রানে ডাভিড মালানের হাতে আফিফ ক্যাচ দিয়ে ফেরায়। আগের ম্যাচে ঝড়ো ফিফটি করা ওমরজাইয়ের পর ইথানও ফিরেছেন ফাহিমের বলে। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি এই পাকিস্তানি পেসার সিলেটের বিপক্ষে চার ওভার বলে ১৮ রানে নেন তিন উইকেট। চার ওভার বল করে ২৪ রানে তিন উইকেট নেন মোস্তাফিজও।


