মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে নানা ধরনের অপতথ্য ও অনুমাননির্ভর বক্তব্য প্রচার হচ্ছে বলে দাবি করেছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।
রবিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রকৃতপক্ষে, ব্যক্তিগত কারণে তিনি নির্বাচনের কিছুদিন আগেই প্রধান উপদেষ্টার কাছে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান। তবে নির্বাচন সন্নিকটে চলে আসায় মাঠ প্রশাসনের শৃঙ্খলা ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে প্রধান উপদেষ্টার অনুরোধে তিনি নির্বাচনকাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনে সম্মত হন। তাই বিষয়টি নিয়ে অহেতুক অনুমাননির্ভর তথ্য বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।
এর আগে শনিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা শেখ আব্দুর রশীদের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হলো।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় টাইমস অব বাংলাদেশকে আব্দুর রশীদ বলেন, ‘চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ভালো না, তাই সরে যাচ্ছি।’
পরে শনিবার রাতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে এম সিরাজ উদ্দিন মিয়াকে দায়িত্ব দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। শনিবার রাতেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব তিনি অতিরিক্ত হিসেবে পালন করবেন।
মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় দিনের মাথায় ২০২৪ সালের ১৩ অগাস্ট বিসিএস-৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা সাবেক অতিরিক্ত সচিব রশীদকে পল্লী কর্মসহায়ক ফাইন্ডেশন-পিকেএসএফের চেয়ারম্যান করা হয়। তার চার দিনের মাথায় ১৭ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে কর্মজীবন শেষ করা ‘বঞ্চিত’এ কর্মকর্তাকে সচিব পদমর্যাদায় ফিরিয়ে এনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব করা হয়। এরপর ওই বছরের ৮ অক্টোবর দুই বছর মেয়াদের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব পান আব্দুর রশীদ।


