তৃতীয় দিনে দেশজুড়ে কর্মবিরতির পাশাপাশি ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন এমপিওভূক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। তারা সরকারকে “আল্টিমেটাম” দিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকাল ৪টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না করলে ‘মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচিতে যাবেন।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি– বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধি করা।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, তারা শিক্ষা উপদেষ্টার ‘আলোচনার প্রস্তাব’ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে তারা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর অনুরোধে এ দিন বিকাল ৪টা পর্যন্ত ‘সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ’ কর্মসূচি পিছিয়েছেন। তারা বিকাল ৪টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিচ্ছেন। এর মধ্যে দাবি না মানলে তারা ‘সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ’ কর্মসূচি করবেন।

এ কর্মসূচিতে যোগ দিতে এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা থেকে আসা শিক্ষক-কর্মচারীরা শহীদ মিনারে জড়ো হয়েছেন। আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট’।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা, এক হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং কর্মচারীদের ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতার দাবি বাস্তবায়নের প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি, ঢাকায় অবস্থান ও অন্য সব কর্মসূচি চলবে।
প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, ‘শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার শিকার। আমরা আর ঘরে ফিরবো না। এবার দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরবো।’
‘মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের সন্তানরা এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে পড়ে না বলে আমাদের কষ্ট তারা বোঝে না। আমরা যে জীবনযাপন করি, সেটি টিকে থাকা নয়…বেঁচে থাকার সংগ্রাম’, বলেন তিনি।
আন্দোলনের তৃতীয় দিনে সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চের পাশাপাশি সারাদেশে কর্মবিরতি আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।

এর আগে, রোববার প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষকরা। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আটক শিক্ষক-কর্মচারীদের মুক্তির দাবিও জানান তারা।
এদিকে আন্দোলন ও কর্মবিরতির জেরে দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে পাঠদান পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। অনেক জায়গায় টাইফয়েড টিকা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে। শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, কোনো লিখিত প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে সরে যাবেন না।

বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন পেলেও তাদের ভাষ্যে, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা অপ্রতুল। সম্প্রতি আগের এক হাজার টাকার বাড়িভাড়া ভাতা বাড়িয়ে এক হাজার ৫০০ টাকা করা হলেও, বেতনের ২০ শতাংশ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা। চিকিৎসা ভাতা এখনো মাসিক ৫০০ টাকায় সীমাবদ্ধ। উৎসব ভাতা ৫০ শতাংশে উন্নীত হলেও কর্মচারীরা ৭৫ শতাংশ ভাতার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, ডাকসু ও ইনকিলাব মঞ্চসহ একাধিক রাজনৈতিক ও শিক্ষার্থী সংগঠন।


