জ্বালানি খাতে আগের সরকারের সিদ্ধান্তহীনতার কারণেই বর্তমানে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। সংকট মোকাবেলায় সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘গ্যাস সংকট রয়েছে। একটি এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে। অতীতে এ খাতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
ব্রিফিংয়ে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গেও কথা বলেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘ওই নির্বাচন নিয়ে এখনো সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেয়নি। তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনের বিচার না হলে তা অবিচার হবে।’
সোমবার সরকার ২৫ বছরের চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় ৩২ জন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ২০১৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনা সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে বিভিন্ন তৎপরতায় জড়িত ছিলেন।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার যে কাউকে অবসরে পাঠাতে পারে। যাদের অবসরে পাঠানো হয়েছে, তারা সবাই ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় জেলা প্রশাসক ছিলেন। তবে ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। চাকরির মেয়াদ বিবেচনায় তাদের অবসর দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০১৮ সালের নির্বাচন থেকেই বাংলাদেশের ধ্বংস শুরু হয়েছে। এর বিচার না হলে দেশের জন্য ভালো হবে না।’
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি কোনো আইনগত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন না। তবে দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর আগের বা পরের কোনো বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
দেশের খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে সরকারি খাদ্য মজুত ২৩ লাখ ৯৬ হাজার ৭৫৩ মেট্রিক টন, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্ক সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ নিয়ে আলোচনা থাকলেও কার্যকর মূল শুল্কহার আগের তুলনায় বেশি নয়।


