রংপুরে জাতীয় পার্টি এবং এনসিপি নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি এবং সংঘর্ষে দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া এক পক্ষ আরেক পক্ষের নেতাকর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাতে পীরগাছার সরেয়ার তল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, রংপুর-সুন্দরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পাশে গুঞ্জরখাঁ এলাকায় আইন ভঙ্গ করে প্রচারণা চালাচ্ছেন এমন অভিযোগের ভিত্তিতে রংপুর-৪ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমানের পথ রোধ করে এনসিপির নেতাকর্মীরা।
এ নিয়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি ও হট্টগোল হলে এনসিপির লোকজন প্রতিপক্ষের গাড়ির চাবি কেড়ে নেয়। অবরুদ্ধ নেতাকর্মীদের উদ্ধার করতে এসে এনসিপি কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি মনজুরুল ইসলামকেও অবরুদ্ধ করে রাখে জাতীয় পার্টি।
হামলায় এনসিপি কর্মী আব্দুল্লাহ আল সাঈদ শামীম ও বিপ্লবের মাথা ফেটে যায়। তাদেরকে গুরুতর আহত অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ মনজুরুলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
হামলার ঘটনায় উভয় পক্ষ একে অপরকে দায়ী করেছে।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমানের অভিযোগ, এনসিপির নেতাকর্মীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মব তৈরি করে তার গাড়ি ও পথ রোধ করেছে। একতরফা নির্বাচন করতেই তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে।
মাহবুব বলেন, ‘এ ঘটনার মাধ্যমে এনসিপি নেতাকর্মীরা প্রমাণ করেছে তারা মব তৈরীর মাধ্যমে নির্বাচন বানচাল করতে চায়। তিনি প্রশাসনের কাছে বিচার এবং নিরাপত্তা দাবি করেছেন।’
অন্যদিকে এনসিপি পীরগাছার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন দাবি করেছেন, আইন অমান্য করে সাবেক মন্ত্রী টিপু মুন্সির দোসর ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান বিভিন্ন জায়গায় প্রচার চালাচ্ছিলেন। তাকে বিরত রাখার জন্যই পথ রোধ করেছিল এলাকাবাসী। খবর পেয়ে সেখানে এনসিপি নেতাকর্মীরাও যায়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাহবুবের নির্দেশেই তার সমর্থকরা এনসিপি ও ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। জাতীয় পার্টি নিজেরা মব করে এখন এনসিপির ওপর দায় চাপাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। হামলার ঘটনায় মামলা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রংপুর মহানগর মাহিগঞ্জ থানার ওসি মাইদুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


