দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ উচ্চশিক্ষার্থীকে আধুনিক দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে বাধ্যতামূলক চার ক্রেডিটের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) কোর্স চালু করা হয়েছে।
উদ্যোগটি বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে আইসিটি বিভাগের অধীন অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) ও জাতিসংঘ জরুরি শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে কলেজ পর্যায়ের স্নাতক প্রোগ্রামের ৩১টি বিষয় ও অন-ক্যাম্পাসের চারটি বিষয়ের প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার শিক্ষার্থী এই কোর্সে অংশ নেবে। কোর্সে থাকবে তিন ক্রেডিট থিওরি ও এক ক্রেডিট প্র্যাকটিক্যাল।
আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে স্নাতক (পাস) প্রোগ্রামের আরও প্রায় ২ লাখ শিক্ষার্থী যুক্ত হলে প্রতিবছর মোট প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার শিক্ষার্থী এই কোর্সের আওতায় আসবে। তবে, শিক্ষকের ঘাটতি ও পর্যাপ্ত কম্পিউটার ল্যাবের অভাব বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ সমস্যার সমাধানে এটুআই ও ইউনিসেফ বিভিন্ন কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।
ইতোমধ্যে আইসিটি শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ট্রেনিং অব ট্রেইনারস (টিওটি) কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে।
আগামী অক্টোবর মাসে অনলাইন কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচি ও ৯০ জন কোর ট্রেইনার তৈরির জন্য ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হবে। ধাপে ধাপে এসব প্রশিক্ষকের মাধ্যমে ৮৮৩টি অনার্স কলেজের প্রায় ৯০০ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরবর্তী বর্ষ থেকে ডিগ্রি (পাস) প্রোগ্রামেও আইসিটি কোর্স চালুর উদ্যোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ১২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাইক্রোসফট ও অ্যাডবির সহায়তায় বিশ্বমানের প্রফেশনাল স্কিলড কোর্স চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আশা করছে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীরা আধুনিক আইসিটি দক্ষতা অর্জন করে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চাহিদা অনুযায়ী বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম জনশক্তিতে পরিণত হবে।


