জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীদের করপোরেট খাতের নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ করে দিতে আয়োজিত হয়েছে ‘জাকসু জব ফেয়ার অ্যান্ড ক্যারিয়ার সামিট ২০২৬’।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) এই আয়োজনে ২৫টির বেশি করপোরেট প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে, যেখানে ৭০০টির বেশি চাকরির সুযোগ রয়েছে।
শুক্রবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে দিনব্যাপী এ আয়োজন শুরু হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, জব ফেয়ার শিক্ষার্থীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সামনে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরার এই সুযোগ মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে। এর মাধ্যমে একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের দূরত্ব কমিয়ে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।
জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, মেয়াদের শেষ পর্যায়েও শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়েছে। সাক্ষাৎকারের অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি কোনো শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ারে এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেললেই আয়োজন সফল হবে।
জাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ফেরদৌস আল হাসান জানান, প্রথম বর্ষ থেকে মাস্টার্স ও সদ্য স্নাতকদের করপোরেট খাতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই ছিল মূল লক্ষ্য। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা ও জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
গোল্ড পৃষ্ঠপোষক টেরাপ্রাইম হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টস প্রাইভেট লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ অব সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং রুবিনা জাহান তিথি বলেন, জীবনবৃত্তান্ত পর্যালোচনার মাধ্যমে যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয় এবং নতুনদের নিয়োগের মানদণ্ড নিয়ে পরামর্শ দেওয়া সম্ভব হয়।
শিক্ষার্থীরাও এ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। পরিসংখ্যান ও উপাত্ত বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কায়েস মাহমুদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন আয়োজন কম হওয়ায় নিয়মিত এটি করা হলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন। ফার্মেসি বিভাগের ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী আতিয়া জানান, সরাসরি কথা বলার মাধ্যমে চাকরির বাজারের চাহিদা সম্পর্কে জানা যাচ্ছে, যা আগাম প্রস্তুতিতে সহায়তা করবে।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিনামূল্যে খাবার, কফি, খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক কার্যক্রমের ব্যবস্থা রাখা হয়।


