শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, মানসিক চাপ মোকাবিলা এবং আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে ঢাকার হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজে বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ‘তিন সুতোর বাঁধন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে কলেজে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ‘মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শ কেন্দ্র’ দ্রুত চালুর দাবি জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার কলেজের কনফারেন্স রুমে মনোবিজ্ঞান বিভাগের ‘ফ্রয়েড ক্লাব’ আয়োজিত ‘মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে তিন সুতোর বাঁধন’ শীর্ষক এ সেমিনারে শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সাধন কুমার ঘোষ। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ফেরদৌস হাসান শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে এ বিষয়ে মনোবিজ্ঞান বিভাগের সময়োপযোগী উদ্যোগের প্রশংসা করেন। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
কলেজের একাডেমিক কোঅর্ডিনেটর এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘পড়াশোনা ও জীবনের নানামুখী চাপের মধ্যে মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।’
সেমিনারে মূল বক্তা হিসেবে বিষয়ভিত্তিক একটি ইন্টার্যাকটিভ সেশন পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, লেখক ও গবেষক আজহারুল ইসলাম। শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও সংকটের সময়ে পারস্পরিক যোগাযোগ, মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং সহমর্মিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘জীবন যখন অতিরিক্ত ভারাক্রান্ত মনে হয়, তখন তা একা বহন না করে “লেট’ টক, লেট’স লিসেন, লেট’স সাপোর্ট”—এই নীতি মেনে চললে এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ালে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।’
সেমিনারে তরুণ গবেষক, লেখক ও মনোবিজ্ঞানী নিত্যানন্দ গাইন শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা, সহমর্মিতা এবং প্রয়োজনের সময়ে যথাযথ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে মনোবিজ্ঞান বিভাগের তত্ত্বাবধানে কলেজে অনতিবিলম্বে ‘মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শ কেন্দ্র’ চালুর জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘কলেজে একটি প্রাতিষ্ঠানিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ কেন্দ্র চালু হলে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনের সময়ে পেশাদার সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবে। এটি তাদের একাডেমিক ক্ষেত্রে আরও দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও মানসিকভাবে সক্ষম হয়ে উঠতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।’
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ফ্রয়েড ক্লাবের সভাপতি আবরার ফারদিন শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক মনোবৈজ্ঞানিক সহায়তা এবং স্বল্পমূল্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সেমিনারে মেডিটেশন, উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।


