জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষক ও গবেষকদের উদ্ভাবিত রিমোট সেন্সিংভিত্তিক প্রযুক্তির প্রাথমিক গবেষণায় কৃষিজমিতে নাইট্রোজেন সার ব্যবহারের পরিমাণ ২২ থেকে ২৩ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সম্ভাবনা দেখা গেছে।
‘এন-ফার্টিস্মার্ট’ নামের প্রযুক্তিটি জমির বিভিন্ন অংশে নাইট্রোজেনের মাত্রা ও প্রয়োজন বিশ্লেষণ করে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী সার ব্যবহারে সহায়তা করবে। বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ প্রকল্পটির প্রোটোটাইপ প্রদর্শন করা হচ্ছে।
গবেষণা দলের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সেন্টিনেল স্যাটেলাইটের ডেটা ব্যবহার করে প্রতি ১০০ বর্গমিটার এলাকার জমির তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন সেন্সরের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে স্যাটেলাইটের ডেটার সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর মাধ্যমে জমিতে থাকা নাইট্রোজেনের পরিমাণ নির্ণয়ের পাশাপাশি অতিবৃষ্টি বা বন্যার পর এর পরিবর্তনও শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সিএসই বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন বলেন, ‘অতিরিক্ত সার ব্যবহারের ফলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত অংশ মাটিতে থেকে যায়। আমরা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন সেন্সরের সাহায্যে যাচাই করছি।’
তিনি বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, আমরা ২২ শতাংশ সার কমাতে পারি। আগের বছরের তুলনায় কত শতাংশ সার কমেছে, সেটিও নির্ণয় করা সম্ভব। এটাই ছিল আমাদের মূল গবেষণার বিষয়।’
গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ‘ফার্টিলাইজার রিকমেন্ডেশন গাইড ২০২৪’-এ হেক্টরপ্রতি প্রায় ১৭৪ কেজি নাইট্রোজেন সার প্রয়োগের সুপারিশ রয়েছে। ‘এন-ফার্টিস্মার্ট’-এর মডেলভিত্তিক হিসাবে জমির প্রয়োজন অনুযায়ী এ পরিমাণ ১৩৫ দশমিক ৯০ কেজিতে নামিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে।
গবেষকদের দাবি, প্রচলিত সুপারিশের তুলনায় এ হিসাবে প্রায় ২২ শতাংশ কম সার ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।
উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের এ এম এম গোলাম আদম বলেন, ফসলে ব্যবহৃত ইউরিয়া সারের বড় একটি অংশ অপচয় হয়। রিমোট সেন্সিংয়ের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক সারের চাহিদা নির্ধারণ করা গেলে এ অপচয় কমানো সম্ভব। প্রাথমিক ফলাফলে সুপারিশকৃত মাত্রার তুলনায় অন্তত ২২ শতাংশ সার কম ব্যবহারের সম্ভাবনা পাওয়া গেছে।
প্রকল্পটি জবির উদ্ভিদবিজ্ঞান ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়েছে। এতে রয়েছেন মো. আতাউল গনি, এ এম এম গোলাম আদম ও অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন। তরুণ গবেষক বিপ্লব বিশ্বাস ও মো. নাজিম শরিফও প্রকল্পে যুক্ত রয়েছেন।
অধ্যাপক নাসির উদ্দীন জানান, আইসিটি মন্ত্রণালয়ের অনুদানে প্রায় এক বছর আগে গবেষণাটি শুরু হয়।
গবেষকদের মতে, মাঠপর্যায়ে আরও যাচাই ও কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে প্রযুক্তিটির সম্ভাব্যতা নিশ্চিত করা গেলে জমির প্রয়োজন অনুযায়ী সার ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। এতে সার অপচয় ও কৃষকের ব্যয় কমবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত নাইট্রোজেন ব্যবহারের পরিবেশগত চাপও কমানো সম্ভব হতে পারে।


