দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ১০ মাইল কলার হাটটি উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান ও বৃহত্তম পাইকারি কলার বাজার হিসেবে পরিচিত। দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থিত এই হাটে প্রতিদিন ভোর থেকে দূরদূরান্তের বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎপাদিত কলা নিয়ে হাজির হন স্থানীয় কৃষকরা। মে মাসের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এই হাটটি সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলা এই পাইকারি বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর থাকে গোটা এলাকা।
চলতি মৌসুমে এই হাটে কলার প্রচুর পরিমাণে আমদানি লক্ষ্য করা গেছে। বাজারে বিভিন্ন জাতের কাঁচা কলা বিক্রি হলেও এর মধ্যে সাগর কলা এবং মালভোগ কলার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। পাইকারি এই হাটটি কেবল স্থানীয় চাহিদা মেটাচ্ছে না, বরং এখান থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক কলা ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে। কলার পাইকারি ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে এই বাজারটি স্থানীয় অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
চলতি মৌসুমে বিগত বছরের তুলনায় কলার চাষ কিছুটা বেড়েছে। বিগত কয়েক বছরের ভালো লাভের অভিজ্ঞতা কৃষকদের নতুন করে কলা চাষে উদ্বুদ্ধ করেছে। সরকারি ও স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে শুধু দিনাজপুর জেলাতেই প্রায় এক হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ করা হয়েছে, যা স্থানীয় কৃষির একটি বড় অর্জন।

যদিও এই হাটে উৎসবমুখর পরিবেশে বেচাকেনা চললেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় চাষীদের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বাজারের বর্তমান দর অনুযায়ী, কলার মান ও জাত ভেদে প্রতি ছড়া ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
কৃষকদের মতে, বর্তমান বাজারে যে দাম পাওয়া যাচ্ছে, তা উৎপাদন খরচের তুলনায় কিছুটা কম। যে ছড়াটি বর্তমানে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, তার দাম যদি আরও ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি পাওয়া যেত, তবে তারা লাভবান হতে পারতেন। তবে উৎপাদন খরচ কিছুটা কম থাকায় তারা পুরোপুরি লোকসানে নেই।
হাটটি আরও প্রায় দুই মাস চলমান থাকবে। কৃষকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, মৌসুমের বাকি সময়ে কলার দাম কিছুটা বাড়লে তারা কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জন করতে পারবেন এবং বিগত সময়ের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে সক্ষম হবেন।


