ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে যাত্রীবাহী একটি ফেরি উল্টে অন্তত ১৪০ জন নিখোঁজ হয়েছেন।
রোববার দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১০২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং এক যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ফেরিটি পূর্ব জাভা থেকে দক্ষিণ কালিমান্তান প্রদেশের বানজারমাসিনের উদ্দেশে যাচ্ছিল। স্থানীয় সময় রোববার রাত ২টার দিকে ফেরিটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। পরে কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, জাহাজটি বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে উল্টে গেছে।
দুর্ঘটনার আগে ফেরিটির ক্যাপ্টেন সর্বোচ্চ ৩ মিটার (১০ ফুট) উচ্চতার ঢেউসহ উত্তাল সমুদ্রের কথা জানিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। এরপর তিনি ফেরিটি একদিকে হেলে পড়েছে জানিয়ে বিপৎসংকেত পাঠান।
সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অফিসের প্রধান ই পুতু সুদায়ানা জানান, ফেরিটির অপারেটর বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে জাহাজটি বিপদে পড়ার তথ্য পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। এরপর উদ্ধারকারী একটি জাহাজ ফেরিটির সর্বশেষ অবস্থান হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় পাঠানো হয়। বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও ক্রু থাকায় সব ধরনের জনবল ও উদ্ধার সরঞ্জাম কাজে লাগানো হচ্ছে।
ফেরিটির সর্বশেষ অবস্থান বানজারমাসিনের একটি ঘাট থেকে প্রায় ১৪৮ কিলোমিটার দূরে জাভা সাগরে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। জাহাজের যাত্রী তালিকা অনুযায়ী এতে ২১৩ যাত্রী ও ৩০ ক্রুসহ মোট ২৪৩ জন ছিলেন। তবে ইন্দোনেশিয়ায় ফেরিতে প্রকৃত যাত্রীর সংখ্যা অনেক সময় তালিকার সংখ্যার থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে।
সুদায়ানার সমন্বয়ে চলা অভিযানে স্থানীয় টাগবোট ও অন্যান্য নৌযানও যুক্ত হয়েছে। এই পর্যন্ত ১০২ জনকে উদ্ধার এবং একজনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে উদ্ধারকারী সংস্থা। দুর্ঘটনাস্থলের আবহাওয়াও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ফেরিটি শনিবার সকাল ১০টা ৩৩ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা প্রদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সুরাবায়া থেকে ছেড়ে যায়। রোববার দুপুর ২টার দিকে বোর্নিও দ্বীপের বানজারমাসিনে পৌঁছানোর কথা ছিল।
১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় ফেরি যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। দেশটিতে প্রায়ই ফেরি দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইন প্রয়োগের ঘাটতিকে এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়।
এর আগে গত মাসে ইন্দোনেশিয়ার পর্যটন দ্বীপ বালির কাছে উত্তাল সমুদ্রে একটি ফেরিতে আগুন লাগার ঘটনায় অন্তত ২১১ জনকে উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় একজন নিহত এবং চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। এর দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে জাভা দ্বীপের কাছে ‘মুতিয়ারা সেন্টোসা ২’ নামের আরেকটি ফেরিতে আগুন লেগে অন্তত পাঁচজন নিহত হন।
রোববারের দুর্ঘটনার মাত্র চার দিন আগে ফিলিপাইনে একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ আগুনে অন্তত ৭৬ জন নিহত হন। ওই ঘটনায় আরও ১০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।


