ফিলিপাইনের পশ্চিম উপকূলে একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে আগুনে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৪৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো বহু যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন।
ফিলিপাইনের কোস্টগার্ডের মুখপাত্র কমোডর নোমি কায়াবায়াব জানান, ‘এমভি জুন অ্যাস্টার’ নামের ফেরিটিতে বুধবার সন্ধ্যায় আগুন লাগে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ফেরিটি একদিকে কাত হয়ে পানিতে ভাসছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরেও পোড়া ফেরিটি থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।
তিনি বলেন, এখনো উদ্ধার কাজ চলছে। কোস্টগার্ডের একটি জাহাজ ও দ্রুতগতির উদ্ধারকারী নৌকার পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর একটি জাহাজ, সরকারি নৌযান, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী এবং জেলেরা অভিযানে অংশ নিচ্ছেন।
ফেরিটির আশপাশে থাকা অন্য জাহাজগুলোকে যাত্রীদের খুঁজে দেখতে রেডিও বার্তা পাঠিয়েছে কোস্টগার্ড। কেউ স্রোতে ভেসে উপকূলে পৌঁছেছেন কি না, তা জানতে উপকূলীয় গ্রামগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।
রাতের উদ্ধার অভিযানে ফেরিতে আগুন জ্বলতে থাকা অবস্থায় কোস্টগার্ড সদস্যরা বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের দিকে লাইফ জ্যাকেট ছুড়ে দেন। পরে ছোট নৌকায় করে যাত্রীদের অগভীর পানিতে নেওয়া হয়। বন্দরের মতো একটি স্থানে মরদেহের ব্যাগও দেখা যায়।
ফেরিটি ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা থেকে ছেড়ে পালাওয়ান প্রদেশের কোরন শহরের দিকে যাচ্ছিল। গন্তব্যের কাছাকাছি বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুন লাগে।
উদ্ধার অভিযানে প্রতিকূল আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউ বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিপদসংকেত পাঠানোর সময় ফেরিটি কোরনের তুরদা গ্রামের উপকূল থেকে প্রায় ৪ নটিক্যাল মাইল বা ৭ দশমিক ৪ কিলোমিটার দূরে ছিল। তবে তীব্র স্রোতে সেটি পরে তুরদা থেকে ৭ দশমিক ৬৮ নটিক্যাল মাইল বা ১৪ দশমিক ২ কিলোমিটার দূরে সরে যায়।
আগুন লাগার কারণ এখনো জানা যায়নি। এক যাত্রী জানিয়েছেন, আগুন সম্ভবত ফেরিটির কার্গো হোল্ড থেকে শুরু হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কোস্টগার্ড কর্তৃপক্ষ জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ও সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে।
কায়াবায়ায়াব জানান, ফেরিটিতে মোট ১৩৪ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে ১১৭ জন যাত্রী এবং ১৭ জন ক্রু। যাত্রীদের মধ্যে কোনো বিদেশি নাগরিক ছিলেন কি না, তা এখনো জানা যায়নি।


