সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে বালুবোঝাই বলগেট ডুবে নিখোঁজ দুই শ্রমিককে দুই দিনেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
সোমবার সকাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিখোঁজদের আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বড় বয়ড়া এলাকায় যমুনা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজরা হলেন নোয়াখালী জেলার মাইজদী উপজেলার আন্তারচর গ্রামের লোকমান হোসেন মৃধার ছেলে মোরশেদ (২৫) এবং চাদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার কাশিমনগর গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে শ্রমিক ফয়সাল (১৯)।
সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপ-পরিচালক মো. শরীফুল ইসলাম জানান, শনিবার সন্ধ্যায় যমুনা নদীতে বালু বোঝাই একটি বলগেট ডুবে কয়েকজন শ্রমিক নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
তিনি বলেন, নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় পানির গভীরে গিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। রোববার দিনভর চেষ্টা করেও নিখোঁজ দুই শ্রমিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সোমবার সকাল থেকে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, দুর্ঘটনার সময় বলগেটটিতে ইঞ্জিনচালকসহ চারজন শ্রমিক ছিলেন। পানির তীব্র স্রোতের কারণে বালুবোঝাই বলগেটটি ডুবে যায়। এ সময় দুই শ্রমিক সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও মোরশেদ ও ফয়সাল নিখোঁজ হন।
ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ দুই শ্রমিক বলগেটের ইঞ্জিন কক্ষে আটকে থাকতে পারেন।
সিরাজগঞ্জ নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত দুই দিন ধরে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করে নিখোঁজ দুই শ্রমিককে উদ্ধারের চেষ্টা করছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে নেমেও এখন পর্যন্ত তাদের সন্ধান পায়নি।
তিনি বলেন, নদীতে প্রচণ্ড স্রোত থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া বলগেটটি বালুবোঝাই থাকায় ইঞ্জিন কক্ষে প্রবেশ করা সম্ভব হচ্ছে না। গেটের প্রবেশপথও ছোট হওয়ায় ডুবুরি দল ভেতরে ঢুকতে পারছে না।
নিখোঁজ দুই শ্রমিককে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে দীর্ঘ সময়েও তাদের সন্ধান না পাওয়ায় স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।


