মুগদা হাসপাতালে বাইরে পরীক্ষা করানোর অভিযোগে ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মুগদা হাসপাতালে বাইরে পরীক্ষা করানোর অভিযোগে ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী
মুগদা হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ছবি: সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইরে পরীক্ষা করানোর অভিযোগের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

শুক্রবার ৫০০ শয্যার সরকারি হাসপাতালটিতে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে রোগীদের কাছ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানেন তিনি। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, বিশেষ করে ডেঙ্গু ওয়ার্ড ঘুরে দেখার পাশাপাশি চিকিৎসাধীন রোগী, তাদের স্বজন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী।

হাসপাতালের সেবার মান ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে রোগী ও স্বজনেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী আকস্মিক পরিদর্শনে যান।

পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী হাসপাতালের ভেতরে ১৫ থেকে ২০ জন রোগীর চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র ও ফটোকপি পরীক্ষা করেন। এ সময় তিনি দেখতে পান, হাসপাতালে বিনামূল্যে বা সরকারি খরচে পরীক্ষার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বাইরের ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লোকজন ওয়ার্ডে ঢুকে রক্ত সংগ্রহ করছেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘যে অভিযোগ শুনে এখানে এসেছি সেটা শতভাগ সত্য। ডেঙ্গু শনাক্তে সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষার সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে লোক এসে রোগীদের রক্ত সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়ার প্রমাণ পেয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে সুবিধা আছে। বাইরে থেকে লোক এসে এখান থেকে ব্লাড নিয়ে যায়, এরা কি অন্ধ? ডাক্তার আছে, চোখে দেখবে না?’

নার্স ও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদেরও ভর্ৎসনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাইরের সততা, জমজম আরও কী কী, ওরা এসে ফেরিওয়ালার মতো ব্লাড কালেক্ট করে নিয়ে যায়। রোগীদের টাকা দিয়ে ব্লাড টেস্ট করাতে হচ্ছে।’

আরও পড়ুন

মন্ত্রীর অসন্তোষের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেয়। তখন মন্ত্রী বলেন, ‘মোবাইল কোর্ট কাকে বসাইছেন? কারে জেল খাটাইছেন? এগুলা বললে আমি শুনব? আই অ্যাম অ্যা ম্যান অব প্রিন্সিপাল। আপনার মেশিন ভালো, সবই ভালো, বাট সার্ভিস ইজ নট গুড। ইট ইজ ইউর গেম!’

পরিদর্শনের সময় ডেঙ্গু ওয়ার্ডে মশারি ব্যবহার না করার বিষয়টিও মন্ত্রীর নজরে আসে। হাসপাতাল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের তিনি বলেন, ‘আপনার ডেঙ্গুর ওয়ার্ডে আমি মশারি দেখলাম না কেন?’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রোগী ও স্বজনেরা মশারি খুলে ফেলেন। জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘না না, এটা বললে হবে না। রোগীরা অনেক সময় নিতে চায় না, তবে বাধ্য করতে হবে মশারি নিতে। তা না হলে আমার ভালো রোগীগুলোও অসুস্থ হয়ে যাবে। আজ থেকে এটা বাধ্যতামূলক করবেন।’

অন্যদিকে, পরিদর্শনের সময় রোগী ও স্বজনেরা হাসপাতালের বিভিন্ন সেবা নিয়ে অভিযোগ করেন। তারা বিশেষ করে লিফট নিয়মিত চালু না থাকা এবং পরীক্ষার নমুনা জমা বা রিপোর্ট নেওয়ার জন্য এক তলা থেকে অন্য তলায় ছুটোছুটির কথা জানান।

এক রোগীর স্বজন অভিযোগ করেন, লিফট চালু না থাকায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ওঠানামা করানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। নার্স ও চিকিৎসকদের বারবার অনুরোধ করেও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ করেন রোগীরা।

বাইরের ক্লিনিকের মাধ্যমে পরীক্ষা করানোর কারণে বাড়তি খরচের অভিযোগও করেন এক রোগীর স্বজন। তিনি জানান, বাইরের ক্লিনিকের লোক এসে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে পরীক্ষা করাচ্ছে।

সার্বিক ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী জানান, ‘ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতালগুলোতে প্রস্তুতি রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।’

পাশাপাশি দেশব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের কথাও জানান তিনি।

এভাবে হাসপাতাল চলবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘হয়ত আমি থাকব, নাইলে অনিয়ম থাকবে, দুইটার একটা হবে।’

স্বাস্থ্য খাতের অনিয়মের বিরুদ্ধে এ ধরনের আকস্মিক পরিদর্শন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয়

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর