যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (এআইএস) বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল্লাহকে মারধর এবং ভিডিও করতে গিয়ে সাংবাদিক হেনস্তার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলেও তা প্রকাশ না করায় অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সর্বশেষ এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সাংবাদিকদের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্যের পাশাপাশি প্রকাশ্যে মারধরের হুমকি দিয়েছেন। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকরা। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
শুক্রবার রাত ২টার দিকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইজাজুল কবীর সাংবাদিকদের একটি পোস্ট ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে মন্তব্যে লেখেন, ‘সবাই ভুলে গেলেও আমি ভুলতে পারছিনা…। এই ফাত্রামির হিসাব সাংঘাতিক সমিতিকে দিতে হবে…। এখন আসলেই আফসোস হয়, মারলেই ভালো হতো…।’
গত ৭ জুলাই ফুটবল বিশ্বকাপের খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে ওই শিক্ষার্থীকে মারধর ও সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ইমরান খানকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রশাসন। নির্ধারিত সময়ে কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলেও এবং রিজেন্ট বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হলেও সুপারিশ প্রকাশ করা হয়নি।
মারধরের শিকার শিক্ষার্থী মো. সাইফুল্লাহ বলেন, ‘গত ৭ জুলাই আমি একটি নির্মম হামলার শিকার হই। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন প্রক্টর স্যার এবং ঘটনার ভিডিও প্রমাণও রয়েছে। প্রশাসনের প্রতি আস্থা রেখে আমরা সেদিন কোনো পাল্টা সংঘর্ষে জড়াইনি। লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর দুই মাস অতিবাহিত হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’ তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
ঘটনার সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ভিডিও করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হন দৈনিক জনকণ্ঠের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ইমরান হোসেন, চ্যানেল আইয়ের মাহফুজুল ইসলাম ও দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সাব্বির আহমেদ।
ইমরান হোসেন বলেন, ভিডিও করায় অভিযুক্তরা ফোন ফেলে দেয় এবং বুকে ধাক্কা দেয়। পরদিনই প্রশাসনের কাছে আবেদনের পরও বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে সাংবাদিকদের হুমকি দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে শিক্ষার্থী ইজাজুল কবীর বলেন, ‘আমার ফেসবুক পোস্টের কারণে কি সবাই ভয় পেয়ে গেছে? সবার কি হাত-পা কাঁপাকাঁপি শুরু হয়ে গেছে আমার পোস্ট আর কমেন্ট দেখে? ফেসবুকে কত মানুষ কত কিছুই তো করে। তোমরা তোমাদের প্রমাণ যা আছে, তা প্রক্টরের কাছে দাও। পরে আমি দেখতেছি যে কী করা লাগে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মারামারির ঘটনার যে তদন্ত কমিটি হয়েছিল, সেটার বিচারই তো প্রক্টর এখনো করেনি। আমার যা ইচ্ছা, আমি তাই পোস্ট করব।’
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ইমরান খান জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ প্রশাসন ভালো বলতে পারবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. হামিদুর রহমান বলেন, প্রশাসন বিষয়ে সচেতন এবং একটি উচ্চতর কমিটি গঠন করা হবে। উচ্চতর কমিটির ফলাফলের ভিত্তিতে রিজেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ইয়ারুল কবীর বলেন, ‘সাংবাদিকরা সবসময় সত্য তুলে ধরেন। এ কারণে মাঝেমধ্যে তাদের হুমকির মুখে পড়তে হয়। কেউ বাড়াবাড়ি করলে আপনারা আইনি ব্যবস্থা নেন।’
আগামী ২৯ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রিজেন্ট বোর্ড সভায় খুব দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।


